বাংলাহান্ট ডেস্ক: যুদ্ধের আবহে বিশ্বজুড়ে যে জ্বালানি সঙ্কট তৈরি হয়েছে তার জেরে পেট্রোল-ডিজেলের দাম নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছে সাধারণ মানুষ। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়াতে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। ‘পিএম ই-ড্রাইভ’ (PM E-DRIVE Scheme) প্রকল্পের আওতায় নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে কেন্দ্র। সেই নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, প্রায় ১০,৯০০ কোটি টাকার এই প্রকল্পে এবার বৈদ্যুতিক দু’চাকা ও তিন চাকার যানবাহনের জন্য ভর্তুকির সময়সীমা এবং দামের ঊর্ধ্বসীমা নির্দিষ্ট করা হয়েছে। কেন্দ্রের দাবি, এই সিদ্ধান্তের ফলে একদিকে যেমন পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার বাড়বে, তেমনই ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ই উপকৃত হবেন।
পিএম ই-ড্রাইভ’ (PM E-DRIVE Scheme) প্রকল্পে নতুন নির্দেশিকা জারি কেন্দ্রের:
নতুন এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩১ জুলাই পর্যন্ত রেজিস্টার্ড বৈদ্যুতিক দু’চাকা যানবাহনই এই প্রকল্পের আওতায় ভর্তুকির জন্য বিবেচিত হবে। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কেনা ও রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হওয়া গাড়িগুলিই এই সুবিধা পাবে। এর পাশাপাশি, ই-রিকশা ও ই-কার্ট-সহ বৈদ্যুতিক তিন চাকার যানবাহনের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা অনেক বেশি দীর্ঘ রাখা হয়েছে, যা ২০২৮ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। ফলে তিন চাকার ক্ষেত্রে পুরো প্রকল্পকাল জুড়েই ভর্তুকির সুবিধা পাওয়া যাবে।
আরও পড়ুন: সোনার দামে বড় চমক! মাসের শেষে বাজারে ২২ ও ২৪ ক্যারেট হলুদ ধাতুর লেটেস্ট প্রাইস জানুন
শুধু সময়সীমা নয়, ভর্তুকি পাওয়ার জন্য যানবাহনের দামও নির্দিষ্টভাবে বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, কারখানা থেকে বের হওয়ার আগের দামে সর্বোচ্চ ১.৫ লক্ষ টাকার মধ্যে থাকা বৈদ্যুতিক দু’চাকা এবং ২.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দামের বৈদ্যুতিক তিন চাকার যানবাহনই এই প্রকল্পের আওতায় আসবে। এর ফলে উচ্চমূল্যের প্রিমিয়াম মডেলগুলি ভর্তুকির বাইরে থাকবে এবং মূলত মধ্যবিত্ত ও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থাকা যানবাহনগুলিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।
কেন্দ্রীয় ভারী শিল্প মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই প্রকল্পের জন্য একটি নির্দিষ্ট তহবিল বরাদ্দ করা রয়েছে। ফলে সেই তহবিল শেষ হয়ে গেলে নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রকল্প বা তার কোনও অংশ বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে আর নতুন করে আবেদন গ্রহণ করা হবে না বলেও স্পষ্ট করা হয়েছে। তাই আগ্রহী ক্রেতাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

আরও পড়ুন: গরম পড়তেই রেলের বড় সিদ্ধান্ত, কলকাতা থেকে নতুন স্পেশাল ট্রেন চালু
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, মোট ২৪,৭৯,১২০টি বৈদ্যুতিক দু’চাকা এবং ৩৯,০৩৪টি বৈদ্যুতিক তিন চাকার জন্য এই আর্থিক সহায়তা প্রযোজ্য হবে। পরিবেশ দূষণ কমানো এবং বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে কেন্দ্রের এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে প্রকল্পের (PM E-DRIVE Scheme) সুবিধা পেতে হলে সময়সীমা ও মূল্যসীমার বিষয়টি মাথায় রেখে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়াই এখন ক্রেতাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

















