বাংলাহান্ট ডেস্ক: দেশজুড়ে জ্বালানি সঙ্কটের আবহে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। পাইপলাইনের মাধ্যমে রান্নার গ্যাস পান, এমন গ্রাহকদের আর আপাতত LPG সিলিন্ডার (LPG Cylinders) দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক। শনিবার জারি করা এক নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যাঁদের বাড়িতে পাইপলাইন গ্যাস বা PNG সংযোগ রয়েছে, তাঁরা আপাতত এখন আর LPG সিলিন্ডার পাবেন না। পাশাপাশি নতুন করে কোনও রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা বা পরিবেশকের মাধ্যমে তাঁদের সিলিন্ডার রিফিল করার ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
LPG সিলিন্ডার (LPG Cylinders) নিয়ে এবার বড় ঘোষণা কেন্দ্রের:
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালী কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় পশ্চিম এশিয়া থেকে জ্বালানি সরবরাহও বিঘ্নিত হচ্ছে। ইরান আগেই হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, যতদিন না পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে ততদিন ওই পথ দিয়ে পশ্চিম এশিয়ার তেল বাইরে যেতে দেওয়া হবে না। যদিও কেন্দ্রের তরফে বারবারই বলা হচ্ছে দেশে জ্বালানির বড় কোনও সঙ্কট নেই, তবু বাজারে গ্যাসের ঘাটতি এবং মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে ইতিমধ্যেই একটি অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন: যুবসাথী পেমেন্ট নিয়ে বড় আপডেট! SMS পাওয়ার পর ঠিক কী করতে হবে জানুন
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক সূত্রের খবর, রান্নার গ্যাসের জোগান নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই নির্দেশিকায় আরও স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, যাঁরা পাইপলাইন গ্যাস ব্যবহার করেন তাঁদের নতুন করে গার্হস্থ্য LPG সংযোগও দেওয়া হবে না। কারণ, দেশে গ্যাসের চাহিদা দ্রুত বেড়ে চলেছে এবং সাপ্লাই লাইনে ইতিমধ্যেই চাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিকল্প ব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল গ্রাহকদের জন্য সিলিন্ডারের জোগান নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
ভারত বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাসের ক্রেতা এবং দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষই LPG আমদানি নির্ভর। তার বড় অংশই আসে হরমুজ প্রণালী দিয়ে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সেই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহে যথেষ্ট অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যদিও সম্প্রতি ভারতের পতাকাবাহী কয়েকটি জ্বালানিবাহী জাহাজকে ওই প্রণালী পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। নরেন্দ্র মোদি এবং এস জয়শঙ্করের সঙ্গে একাধিক কূটনৈতিক আলোচনার পর তেহরান এই ছাড়পত্র দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুন:পুলিশের চাকরি সামলে UPSC-র প্রস্তুতি! ষষ্ঠ চেষ্টায় পেলেন সাফল্য, IAS হয়ে স্বপ্নপূরণ অপূর্বার
এদিকে কেন্দ্রের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, আতঙ্কে বহু মানুষ একসঙ্গে সিলিন্ডার বুকিং করছেন, যার ফলে সমস্যা আরও বাড়ছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির আবহে একদিনে প্রায় ৮৮ লক্ষ বুকিং হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগ উঠেছে যে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কালোবাজারি শুরু করেছেন। সেইসব রুখতে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচলের আংশিক অনুমতি মিললেও, তা কি দেশের এই ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সঙ্কট সামাল দিতে যথেষ্ট হবে?












