বাংলা হান্ট ডেস্ক : বাংলার রাজনীতিতে ভোটের ফল প্রকাশের পরেই সামনে আসছে নতুন প্রশ্ন, কবে ইস্তফা দেবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ইস্তফা প্রসঙ্গে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। বিধানসভা নির্বাচনে গেরুয়া শিবিরের সাফল্যে কার্যত কোণঠাসা হয়েছে শাসকদল। ভবানীপুর কেন্দ্র থেকেও পরাজয়ের মুখ দেখতে হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা প্রসঙ্গে মমতা (Mamata Banerjee)
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন আর বিধায়ক নন, মুখ্যমন্ত্রীও নন। আইন অনুযায়ী, কোনও সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে মুখ্যমন্ত্রীর ইস্তফা দেওয়াই প্রচলিত রীতি। কিন্তু এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ না করায় শুরু হয়েছে বিতর্ক। ইতিহাসে ফিরে তাকালে দেখা যায়, ২০১১ সালে পালা বদলের সময় বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ফল ঘোষণার দিনই মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন।
সেই কথা মাথায় রেখেই অনেকের ধারণা ছিল, এবারও একই পথ অনুসরণ করবেন মমতা। কিন্তু বাস্তবে অন্য ছবি ধরা পড়ছে। ভোটের ফলাফল নিয়ে মমতা অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এমনকি গণনাকেন্দ্রে পৌঁছে ভোটে অনিয়মের অভিযোগ তোলেন।
মমতার দাবি, নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে এবং বিজেপির জয় নৈতিক নয়। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি ভোট চুরি করেছে। এই প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, তিনি হয়তো আইনি লড়াইয়ের পথ বেছে নিতে পারেন। আদালতের দ্বারস্থ হয়ে নির্বাচনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
অন্যদিকে, কেন মমতা এখনও ইস্তফা দিলেন না, এই প্রসঙ্গে বিরোধীরা প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে তা নিয়ে স্পষ্ট ধারণা দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন তিনি জানিয়েছেন যে তাঁর ভোট লুট করা হয়েছে, তিনি হারেননি, তাই তিনি ইস্তফা দেবেন না। এদিকে ইন্ডিয়া জোটের সাথে শক্তি বাড়ানোর কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে।

আরও পড়ুন : বুথ বা পার্টি অফিস দখল নয়, হিংসা ছড়ালে দল থেকে বহিষ্কার—কড়া বার্তা শমীকের
উল্লেখ্য, নজর রয়েছে রাজভবনের দিকেও। রীতি অনুযায়ী, সংখ্যাগরিষ্ঠ দলকে সরকার গঠনের আহ্বান জানাবেন রাজ্যপাল। তবে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ইস্তফা না দিলে সাংবিধানিকভাবে কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে, তা নিয়েও ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে বলে সূত্রের খবর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সিদ্ধান্তের ফলে, রাজ্যের ক্ষমতার সমীকরণ কোন পথে এগোবে এবং এই বিতর্কের শেষ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা এখন স্পষ্টত বলা যাচ্ছে না।












