বাংলা হান্ট ডেস্ক : বারুইপুরের (Baruipur) এনকাউন্টার ও গণপিটুনির ঘটনায় তদন্ত আর দীর্ঘায়িত করতে চাইছে না কলকাতা হাইকোর্ট। পুলিশি গুলিতে অভিযুক্তের মৃত্যু এবং জনতার হাতে এক ব্যক্তির প্রাণ হারানোর ঘটনায় সিআইডির তদন্ত কতটা এগিয়েছে, তা নিয়ে আদালতে প্রশ্ন উঠেছে। সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্ত শেষ না হওয়ায় এবার দ্রুততার সঙ্গে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য রাজ্যকে বার্তা দিল উচ্চ আদালত।
বারুইপুরের ঘটনায় (Baruipur) কী জানাল হাইকোর্ট ?
ঘটনার সূত্রপাত বারুইপুরে এক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগকে কেন্দ্র করে। সেই মামলায় প্রভাস মণ্ডল নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। পরে তদন্তের অংশ হিসেবে তাঁকে নিয়ে ঘটনাস্থলে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করানো হচ্ছিল। পুলিশের দাবি, সেই সময় তিনি হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় প্রভাসের মৃত্যু হয়।এরপর ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হলে, স্থানীয় জনতার মারধরে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। একই সময়পর্বে ঘটে যাওয়া এই দুই মৃত্যুর বিষয়েই পুলিশের ভূমিকা এবং ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। শেষ পর্যন্ত দুটির তদন্তের দায়িত্বই রাজ্য সিআইডির হাতে যায়।
তদন্ত নিয়ে সন্তুষ্ট না হয়ে নিরপেক্ষ অনুসন্ধান এবং প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণের দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন মামলাকারীরা। বিশেষ করে পুলিশের কার্যকলাপ, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে বিস্তারিত তদন্তের দাবি জানানো হয়। বুধবার মামলার শুনানিতে রাজ্য তদন্তের অগ্রগতি তুলে ধরে আদালতে একটি রিপোর্ট জমা দেয়। রাজ্যের হয়ে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার জানান, রিপোর্টটির চরিত্র অত্যন্ত স্পর্শকাতর। তদন্তের স্বার্থে সেটি প্রকাশ্যে আনা বা আদালতের বাইরে ছড়িয়ে পড়া উচিত নয় বলে তিনি আবেদন করেন।
তবে মামলাকারীদের আইনজীবী পার্থ সারথি সেনগুপ্ত পুলিশের কার্যকলাপ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তদন্ত চলাকালীন গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ নষ্ট বা আড়াল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে বলে তিনি আদালতকে জানান। সেই কারণে ভিডিয়ো রেকর্ডিং, নথি এবং অন্যান্য প্রমাণ যাতে সুরক্ষিত রাখা হয়, সেই আবেদন করেন তিনি।
দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, ঘটনার পর ইতিমধ্যেই যথেষ্ট সময় অতিবাহিত হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক বলেও মন্তব্য করে বেঞ্চ। আগামী শুনানির আগেই তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি আশা করছে আদালত।

আরও পড়ুন :পুজোর সরকারি টাকায় এবার কড়া নজর, অনুদান পেতে জমা দিতে হবে এই নথিগুলি
ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্ত নথি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদান নিরাপদে সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। মামলায় যুক্ত প্রত্যেক পক্ষকে নিজেদের বক্তব্যের সমর্থনে আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা জমা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। তিন সপ্তাহ পর মামলাটি ফের আদালতে উঠবে। সেই সময় সিআইডির তদন্ত কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে, কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং মামলার সঙ্গে যুক্ত নথিপত্র কতটা সুরক্ষিত রয়েছে—এই বিষয়গুলিই আদালতের নজরে থাকবে।













