বাংলা হান্ট ডেস্ক : আরজি কর কাণ্ডের (RG Kar Case) তদন্তে ফের বড় মোড়। তিলোত্তমার দেহ সৎকার ঘিরে ওঠা অভিযোগের তদন্ত এবার আর রাজ্য পুলিশের হাতে থাকল না। কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High Court) নির্দেশে এই মামলার তদন্তভারও গেল সিবিআইয়ের হাতে। একই ঘটনায় আদালতের নজরদারিতে কেন্দ্রীয় তদন্ত চলার পরেও খড়দহ থানার পুলিশ পৃথক ভাবে এফআইআর করে তদন্ত শুরু করায় আদালতে তীব্র প্রশ্নের মুখে পড়ে পুলিশের ভূমিকা।
আরজি কর কাণ্ডের (RG Kar Case) তদন্তে বড় মোড়
বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। শুনানিতে উঠে আসে, আরজি কর কাণ্ডের রাত থেকে পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ খতিয়ে দেখতে হাই কোর্টের নির্দেশে ইতিমধ্যেই সিবিআইয়ের বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT কাজ করছে। তার পরেও একই ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত অভিযোগে খড়দহ থানায় নতুন করে মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করা হল কেন, সেটিই আদালতের কাছে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়।
এই মামলার সূত্রপাত তিলোত্তমার দেহ দ্রুত সৎকার করা হয়েছিল—এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে অগস্টে খড়দহ থানায় পৃথক এফআইআর দায়ের হয়। সেই মামলায় পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ, সোমনাথ দে এবং সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের নাম সামনে আসে। পরবর্তী সময়ে তাঁদের গ্রেফতারও করা হয়।কিন্তু পুলিশের এই তদন্ত প্রক্রিয়াই শেষ পর্যন্ত আদালতের নজরে আসে।
বিচারপতি শম্পা সরকার প্রশ্ন তোলেন, মূল আরজি কর মামলায় যখন সিবিআই তদন্ত করছে এবং আদালতের নির্দেশে SIT-ও গঠন করা হয়েছে, তখন খড়দহ থানার পুলিশ কীভাবে একই ঘটনার একটি অংশ নিয়ে আলাদা তদন্ত শুরু করল? আদালতের নির্দেশ এবং তদন্তের কাঠামো সম্পর্কে পুলিশ আধিকারিকরা অবগত ছিলেন কি না, সেই প্রশ্নও ওঠে শুনানিতে।
পুলিশের এই পদক্ষেপের পিছনে আদালতের নির্দেশ এড়িয়ে যাওয়ার কোনও চেষ্টা ছিল কি না, সেই সম্ভাবনাও উত্থাপন করেন বিচারপতি শম্পা সরকার। তিনি জানান, প্রয়োজন মনে করলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা আদালতের রয়েছে। শুনানিতে পুলিশের এফআইআর করার পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। তাঁর মন্তব্য, “অভিযোগপত্র পাওয়ায় পরই যদি পুলিশ এফআইআর করে, তাহলে অন্য ক্ষেত্রেও সেটা হোক। পুলিশের এমন পদক্ষেপে হাইকোর্টের মামলার বোঝা কমবে।”
আদালতের এই নির্দেশের ফলে সৎকার সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্ত আর খড়দহ থানার পুলিশ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে না। মামলার যাবতীয় নথি ও তদন্তের দায়িত্ব সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে আরজি কর-কাণ্ডের মূল তদন্তের পাশাপাশি তিলোত্তমার দেহ সৎকারের সময় কী ঘটেছিল, কারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং পরিবারের তোলা অভিযোগগুলির সত্যতা কতটা—এখন সেই প্রশ্নগুলিও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অনুসন্ধানের আওতায় আসছে।