সংসারের দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য স্ত্রী? গুরুত্বপূর্ণ রায় জানাল হাইকোর্ট

Published on:

Published on:

High Court's verdict regarding wife's responsibilities
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : বিয়ের পর নিজের বাবা-মায়ের বাড়িতে যাওয়া নিয়েও কি একজন মহিলাকে স্বামীর অনুমতি নিতে হবে? শ্বশুরবাড়ির পছন্দ‌ অপছন্দের উপর নির্ভর করবে তাঁর ব্যক্তিগত যাতায়াত? বিবাহিত জীবনে স্ত্রীর স্বাধীনতার সীমা ঠিক কোথায়, সেই প্রশ্নই এবার উঠে এল হাইকোর্টে (High Court)। ভরণপোষণ সংক্রান্ত একটি আবেদনকে কেন্দ্র করে এই মামলা এজলাসে পৌঁছায়।

কী পর্যবেক্ষণ হাইকোর্টের (High Court)?

সতীশ নামে এক ব্যক্তি পারিবারিক আদালতের দেওয়া খোরপোষের নির্দেশের বিরোধিতা করে হাই কোর্টে যান। ওই ব্যক্তির বক্তব্য অনুযায়ী, স্ত্রী নিজেই সংসার ছেড়ে বাপের বাড়িতে চলে গিয়েছেন। শ্বশুরবাড়িতে থেকে পরিবারের দায়িত্বও পালন করেননি। তাই তাঁকে নিয়মিত অর্থ দেওয়ার নির্দেশ পুনর্বিবেচনা করা উচিত।

এই মামলায় এর আগে পারিবারিক আদালতে স্ত্রী নিজের এবং মেয়ের খরচ চালানোর জন্য মাসিক ৩০ হাজার টাকা দাবি করেছিলেন। শুনানি শেষে আদালত তাঁর জন্য ৫ হাজার এবং সন্তানের জন্য ৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করে। সেই আর্থিক দায় কমানোর লক্ষ্যেই হাইকোর্টে আবেদন করেন স্বামী। নিজের আর্থিক অবস্থার কথাও আদালতে তুলে ধরেন সতীশ। তাঁর দাবি, তিনি কুলির কাজ করে সংসার চালান। সেই উপার্জন থেকে প্রতি মাসে নির্ধারিত অর্থ দেওয়া তাঁর পক্ষে অত্যন্ত কঠিন।

সতীশের স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর কাছ থেকে হেনস্থার শিকার হয়েছেন। দুপক্ষের বক্তব্য শুনে, বিবাহিত মহিলার স্বাধীনতা এবং পারিবারিক দায়িত্ব নিয়ে হাইকোর্ট গুরুত্বপূর্ণ রায় দেন। স্ত্রীর বারবার বাপের বাড়ি যাওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে বিচারপতি চিল্লাকুর সুমালথা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ প্রশ্ন তুলে বলেন, “আদালত বুঝতে অক্ষম যে একজন ভারতীয় মহিলাকে তাঁর বাবা-মায়ের বাড়িতে যাওয়ার জন্য কেন শ্বশুরবাড়ির প্রত্যেকের অনুমতি নিতে হয়?”

শ্বশুর-শাশুড়ির দেখভালের বিষয়েও বিচারপতির পর্যবেক্ষণে জানায়, “শ্বশুরবাড়ির কোনও সদস্য, এমনকী স্বামীও কোনও মহিলাকে বাড়ির কাজকর্ম করা বা শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা করতে বাধ্য করতে পারে না।”‌ পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের পরিচর্যার দায়িত্ব কার, সেটিও ব্যাখ্যা করেছে আদালত। বিচারপতি বলেন, “বাবা-মাকে সেবা করার দায়িত্ব বর্তায় পুত্র বা কন্যার উপর, পুত্রধবূ বা জামাইয়ের উপর নয়। পুত্রধবূ বা জামাইয়ের ক্ষেত্রে শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা করা ইচ্ছামূলক হতে পারে, বাধ্যতামূলক নয়।” পাশাপাশি সংসারের দৈনন্দিন কাজকর্মও কেবল স্ত্রীর ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয় বলে মত আদালতের। দাম্পত্য জীবনে দুজনের মধ্যেই ঘরের দায়িত্ব ভাগ হওয়া প্রয়োজন।

High Court's verdict regarding wife's responsibilities

আরও পড়ুন : প্রতিদিন চলছে হলদিয়া-কলকাতা সরকারি বাস! রইল সময়সূচি ও ভাড়ার তালিকা

মামলার শুনানিতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আনে কর্নাটক হাই কোর্ট। এই প্রসঙ্গে হাইকোর্টের মন্তব্য, “একজন মহিলার অধিকার আছে তাঁর কেরিয়ার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার। স্বামী কোনও ব্যাপারে জোর করতে পারে না। বিয়ে কখনই কারও স্বাধীনতাকে কন্ট্রোল করা, নির্দেশ করা, দমিয়ে রাখা বা দখলদারির লাইসেন্স নয়।” সব দিক বিবেচনা করে সতীশের আবেদন গ্রহণ করেনি হাইকোর্ট। পারিবারিক আদালতের নির্ধারিত খোরপোষের নির্দেশেই কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। আদালতের এই পর্যবেক্ষণ বিবাহিত জীবনে ব্যক্তিস্বাধীনতা, পারিবারিক দায়িত্ব এবং নারী-পুরুষের সমান অংশীদারিত্ব নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে ।