পোস্ট অফিসের ‘এই’ স্কিমে বড় অঙ্কের সুদ! কেবল সুদ হিসেবেই ৪ লক্ষের বেশি, জানুন কীভাবে?

Published on:

Published on:

High interest rate on 'this' Post Office scheme
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : শেয়ার বাজারে টাকা রাখার ক্ষেত্রে রিটার্নের সম্ভাবনার পাশাপাশি বাজারের ওঠানামার ঝুঁকিও থাকে। তাই যাঁরা তুলনামূলক স্থির জায়গায় এককালীন সঞ্চয় রেখে ভবিষ্যতের জন্য একটি নির্দিষ্ট অঙ্ক গড়ে তুলতে চান, তাঁদের নজরে থাকতে পারে পোস্ট অফিসের (Post Office Scheme) ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেট বা NSC। সরকারি ছোট সঞ্চয় প্রকল্পগুলির মধ্যে এই স্কিমটি বেশ পরিচিত। একবার টাকা বিনিয়োগ করার পর নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত তা রেখে দিলে সুদ-সহ অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ থাকে।

পোস্ট অফিসের (Post Office Scheme)এই স্কিমে দারুণ সুদ

এই স্কিমে বর্তমানে বছরে ৬.৭ শতাংশ হারে সুদ দেওয়া হচ্ছে। NSC-র ক্ষেত্রে সুদ সরল হারে নয়, চক্রবৃদ্ধি পদ্ধতিতে হিসেব করা হয়। ফলে সময়ের সঙ্গে সুদের অঙ্কও মূল টাকার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পরবর্তী সুদ হিসেবের অংশ হয়ে যায়। এই কারণেই পাঁচ বছরের শেষে বিনিয়োগের মোট মূল্য শুরুতে জমা করা টাকার তুলনায় বেড়ে যায়।

ধরা যাক, কেউ ১১ লাখ টাকা একবারে NSC-তে রাখলেন। বর্তমান ৬.৭ শতাংশ সুদের হার ধরে হিসেব করলে পাঁচ বছর পর সেই বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ১৫,২১,৩০০ টাকা হতে পারে। অর্থাৎ মূল বিনিয়োগের তুলনায় অতিরিক্ত প্রায় ৪,২১,৩০০ টাকা সুদ হিসেবে যোগ হতে পারে। তবে এই অঙ্কটি বর্তমান সুদের হার অনুযায়ী একটি হিসেব মাত্র। ছোট সঞ্চয় প্রকল্পগুলির সুদের হার সরকার সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন করতে পারে। তাই ভবিষ্যতে প্রকৃত ম্যাচিওরিটি অঙ্ক আলাদা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

NSC শুরু করতে খুব বড় অঙ্কের প্রয়োজন নেই। মাত্র ১,০০০ টাকা দিয়েই বিনিয়োগ শুরু করা যায়। এরপর ১,০০০ টাকার গুণিতকে টাকা জমা করা সম্ভব। এই প্রকল্পে সর্বোচ্চ বিনিয়োগের জন্য নির্দিষ্ট কোনও সীমা রাখা হয়নি। ফলে আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ানো যায়। যদিও কোনও একটি স্কিমে পুরো সঞ্চয় ঢেলে দেওয়ার আগে নিজের আর্থিক পরিস্থিতি ও অন্যান্য প্রয়োজনের বিষয়টি বিবেচনা করা জরুরি। এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল মেয়াদ। NSC-এর লক-ইন বা নির্ধারিত মেয়াদ পাঁচ বছর। সাধারণভাবে এই সময়ের আগেই টাকা তুলে নেওয়ার সুযোগ থাকে না। বিশেষ কিছু পরিস্থিতিতে নিয়ম মেনে আগাম অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার সুযোগ থাকতে পারে। তাই যে অর্থ আগামী কয়েক বছরের মধ্যে প্রয়োজন হতে পারে, সেটি সম্পূর্ণভাবে এই প্রকল্পে আটকে রাখার আগে ভালোভাবে পরিকল্পনা করা দরকার।

বড় অঙ্ক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আরও একটি বিষয় মাথায় রাখা প্রয়োজন। পাঁচ বছর পর্যন্ত টাকা ব্যবহার না করার মতো আর্থিক সক্ষমতা রয়েছে কি না, তার পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতির জন্য আলাদা সঞ্চয় রাখা হয়েছে কি না, সেটিও দেখে নেওয়া উচিত। শুধু সুদের হার দেখে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত না নিয়ে নিজের আর্থিক প্রয়োজনের সঙ্গে প্রকল্পটির মেয়াদ মিলিয়ে নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।

High interest rate on 'this' Post Office scheme

আরও পড়ুন : ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকার থেকে মাসে ৩ হাজার টাকা পাবেন..,’ অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বড় বার্তা মুখ্যসচিবের

NSC শুধুমাত্র প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নয়। শিশুদের নামেও এই সার্টিফিকেট কেনা যায়। ১০ বছরের কম বয়সি শিশুর ক্ষেত্রে অভিভাবক অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করতে পারেন। আবার প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি নিজের নামেও বিনিয়োগ করতে পারেন। ফলে সন্তানের ভবিষ্যৎ শিক্ষা বা দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখেও এই ধরনের সঞ্চয় প্রকল্প বিবেচনা করা যেতে পারে।