বাংলাহান্ট ডেস্ক : অগাস্ট পড়তেই মাছ বাজারে দেখা দিচ্ছে বদল। সম্প্রতি দিঘা মোহনায় টন টন ইলিশ (Hilsa Fish) ধরা পড়েছে মৎস্যজীবীদের জালে। এবার দেশের আরেক প্রান্তেও কয়েক দশক পর দেখা মিলল ইলিশের। দীর্ঘ কয়েক দশক পর উত্তরপ্রদেশের গাজিপুরের গঙ্গায় দেখা মিলেছে ইলিশের। এমন ঘটনায় রীতিমতো চমকিত মৎস্য বিশেষজ্ঞরাও।
উত্তরপ্রদেশে মিলল ইলিশের (Hilsa Fish) দেখা
ফরাক্কায় বাঁধ তৈরির পরেই গঙ্গার মধ্য এবং উচ্চ অববাহিকা ইলিশ একরকম অদৃশ্যই হয়ে গিয়েছে। তাই হঠাৎ করে ইলিশ ধরা পড়ায় আলোড়ন পড়েছে গাজিপুরে। তবে একটা সময় কিন্তু উত্তরপ্রদেশে ইলিশ মেলাটা এমন কিছু অবাক করা বিষয় ছিল না। ২০০ বছরেরও আগে এখানে এখানে রীতিমতো পাওয়া যেত ইলিশ। ১৮২২ এ স্কটিশ চিকিৎসক এবং প্রকৃতিবিদ ফ্রান্সিস হ্যামিল্টন প্রকাশ করেন ‘অ্যান অ্যাকাউন্ট অফ দ্য ফিশেস ফাউন্ড ইন দ্য রিভার গ্যাঞ্জেস অ্যান্ড ইটস ব্রাঞ্চেস’। মিষ্টি ও নোনতা জল মিলিয়ে ইলিশ সহ ২৭২ প্রজাতির মাছের বিবরণ পাওয়া যায় সেখানে।

কেন বদলে গেল ছবিটা: এরপর ১৯৭০ এর দশকে ফরাক্কা ব্যারেজ চালু হতে গঙ্গার স্বাভাবিক জলপ্রবাহে ব্যাঘাত ঘটে। এর ফলে ইলিশের প্রজনন ব্যাহত হয়। এর সঙ্গে নদীর দূষণ, নদীর চরিত্রের পরিবর্তনও বড়সড় প্রভাব ফেলে। যদিও এখন শুরু হয়েছে সংশোধনের কাজ। দিল্লির ওয়াজিরাবাদ, হরিয়ানার হাতনিকুণ্ড, উত্তরপ্রদেশের ওখলা ব্যারেজে মাছের যাতায়াতের জন্য ‘ফিশ ল্যাডার’ ব্যবস্থা তৈরির কথা ভাবা হয়েছে।
আরও পড়ুন : কলকাতা হাই কোর্টে আসছেন স্থায়ী প্রধান বিচারপতি! সুপ্রিম কোর্ট কলেজিয়ামের বড় সুপারিশ
গঙ্গায় হচ্ছে সংশোধন: সিফরির প্রয়াগরাজ দপ্তরের অধিকর্তা বলেন, ইলিশ (Hilsa Fish) ফিরিয়ে আনতে সিফরি ও জাতীয় স্বচ্ছ গঙ্গা মিশন মাছের ব়্যাঞ্চিং, ট্যাগিং ও নজরদারির কাজ চালাচ্ছে। গাজিপুরে নমামি গঙ্গে প্রকল্প সূত্রে খবর, গত সপ্তাহে দুটি ইলিশ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। মাছ দুটির ওজন প্রায় ৭৪০ গ্রাম বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন : ৩-৪ ঘন্টার মধ্যেই বাড়িতে চলে আসবে সিলিন্ডার, নতুন পরিষেবা চালু IndianOil-এর
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইলিশ বেশিরভাগ সময়টাই কাটায় সমুদ্র ও উপকূল অঞ্চলের জলে। এরপর প্রজননের সময় নদীর মিষ্টি জলে উঠে আসে মাছ। তাই মনে করা হচ্ছে, উত্তরপ্রদেশে ইলিশের উপস্থিতি গঙ্গায় দূষণ কমার ইঙ্গিত দিচ্ছে।













