বাংলাহান্ট ডেস্ক: বাংলাদেশে (Bangladesh) নবগঠিত সরকারকে ঘিরে জোর জল্পনা চলছে সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার গঠন নিয়ে। তারিক রহমান-এর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারে একজন হিন্দু প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনার কথা শোনা যাচ্ছে। বিএনপি সূত্রে খবর, দলের বর্ষীয়ান নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়-কে মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হতে পারে। এবারের নির্বাচনে বিএনপির প্রতীকে জয়ী দুই হিন্দু প্রার্থীর মধ্যে তিনি অন্যতম।
বাংলাদেশে (Bangladesh ) তারেকের মন্ত্রিসভায় হিন্দু মুখ?
‘দ্য ডেইলি স্টার’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন মন্ত্রিসভায় প্রায় ৪০ জন সদস্য থাকতে পারেন। পুরনো অভিজ্ঞ নেতা ও নতুন মুখ—দু’য়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে চাইছেন তারিক রহমান। যাঁদের মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল বলে মনে করা হচ্ছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সালাহউদ্দিন চৌধুরী, মির্জা আব্বাস, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং আব্দুল মঈন খান। এঁদের অনেকেই অতীতে খালেদা জিয়া-র সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন।
আরও পড়ুন: তাপের চূড়ান্ত পরীক্ষায় পাশ, ৫৮৫ কোটি ব্যয়ে কলকাতা মেট্রোয় আসছে হাই-টেক রূপান্তর
একই সঙ্গে তরুণ ও নতুন নেতৃত্বকেও সামনে আনতে চাইছে বিএনপি। সম্ভাব্য নতুন মুখদের মধ্যে রয়েছেন শামা উবায়েদ ফরিদপুর-২, আফরোজা খানম রিতা মানিকগঞ্জ-৩ এবং ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল নাটোর-১। দলীয় মহলের মতে, নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ। নির্বাচনের আগে তারিক রহমান সকল সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণের ওপর জোর দিয়েছিলেন এবং জাতীয় ঐক্যের বার্তা দিয়েছিলেন।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপির নীতি নির্ধারণী স্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। ১৯৭৮ সাল থেকে তিনি দলের সঙ্গে যুক্ত। ঢাকা-৩ আসন থেকে জয়ী হয়ে সংসদে প্রবেশ করেছেন তিনি। অতীতে খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায়ও দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর শ্যালক নিতয় রায় চৌধুরীও এবার বিএনপি প্রতীকে জয়ী হয়ে সংসদে এসেছেন, ফলে সংসদে গয়েশ্বরের রাজনৈতিক প্রভাব আরও জোরদার হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ভারতের কাছে হেরে রেগে লাল! নিজের জামাই সহ আর কাদের দল থেকে বাদ দিতে চান শাহিদ আফ্রিদি?
বাংলাদেশে প্রায় ৯ শতাংশ নাগরিক হিন্দু সম্প্রদায়ভুক্ত। অতীতেও বিভিন্ন সরকারের মন্ত্রিসভায় হিন্দু প্রতিনিধিত্ব ছিল। শেখ হাসিনার আমলে নিয়মিতভাবে অন্তত দু’জন হিন্দু মন্ত্রী ছিলেন। এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও বিধান চন্দ্র পোদ্দারকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে নতুন সরকারে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের সম্ভাব্য অন্তর্ভুক্তি সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্বের দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।












