বাংলা হান্ট ডেস্ক: সাম্প্রতিক সময়ে প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আসন্ন সাধারণতন্ত্র দিবসের (Republic Day) অনুষ্ঠানকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য জঙ্গি হামলার বিরুদ্ধে অভূতপূর্ব ও অত্যাধুনিক নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলছে দিল্লি পুলিশ। ষড়যন্ত্রের পেছনে খলিস্তানি জঙ্গি সংগঠন, জইশ-ই-মহম্মদ এবং আল কায়েদার মতো গোষ্ঠীর হদিশ মেলায় ২৬ জানুয়ারির জন্য ‘কোড নেম ২৬-২৬’ নামক অপারেশন পরিকল্পনার কথা ভেবে রাজধানীতে নিরাপত্তা সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
প্রজাতন্ত্র দিবসের (Republic Day) জন্য কীভাবে প্রস্তুত হচ্ছে দিল্লি?
এই উপলক্ষ্যে দিল্লিতে মোতায়েন হবে ৩০ হাজারেরও বেশি দিল্লি পুলিশ কর্মী এবং ৭০টির বেশি কোম্পানির আধাসেনা, যা মোট নিরাপত্তাকর্মীর সংখ্যা দাঁড় করায় প্রায় ৩৮ হাজার। তবে এবারের নিরাপত্তা প্রস্তুতির সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক ‘স্মার্ট গ্লাস’ ব্যবহার। এই গ্লাসে ফেশিয়াল রিকগনিশন ও থার্মাল ইমেজিং প্রযুক্তি থাকায় ভিড়ের মধ্যেই এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চিহ্নিত অপরাধী বা সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করতে সক্ষম।
আরও পড়ুন:স্টাইলিশ লুক, সঙ্গে রয়েছে অবাক করা ফিচার্স! মাত্র এত টাকায় মিলছে Yamaha-র এই দুর্ধর্ষ স্কুটার
দিল্লি পুলিশের এসিপি দেবেশ কুমার মাহলা জানান, এই ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ স্মার্ট গ্লাস সরাসরি পুলিশের অপরাধী ডেটাবেসের সাথে সংযুক্ত থাকবে এবং স্মার্টফোনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হবে। কারও মুখের তথ্য ডেটাবেসের সাথে মিলে গেলে গ্লাসে লাল সিগন্যাল জ্বলবে, আর কোনো রেকর্ড না থাকলে সবুজ সংকেত দেখা যাবে। এটি পুলিশকে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে ও দ্রুত ব্যবস্থা করতে সাহায্য করবে।
স্মার্ট গ্লাস ছাড়াও, প্যারেড রুট ও গোটা শহরে বসানো হচ্ছে ৫০০টির বেশি এআই-সক্ষম উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সিসিটিভি ক্যামেরা। নিরাপত্তা টহল দলের গাড়িতেও একই ফেশিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া, শহর জুড়ে প্রায় চার হাজার বাড়ির ছাদকে সিকিউরিটি পয়েন্ট হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে স্নাইপার মোতায়েন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: বেতন ও পেনশন সংশোধন পিএসজিআইসি, নাবার্ড ও আরবিআই কর্মীদের, কত বাড়ালো কেন্দ্র
বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন ও শপিং কমপ্লেক্সের মতো জনসমাগমস্থলেও নজরদারি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক এসব ব্যবস্থা গ্রহণের পেছনে গোয়েন্দা সূত্রে প্রাপ্ত জঙ্গি গোষ্ঠীর সুনির্দিষ্ট হুমকিই প্রধান কারণ। সবমিলিয়ে, প্রযুক্তি ও মানুষের সমন্বয়ে একটি অদৃশ্য কিন্তু শক্তিশালী ঢাল তৈরি করে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা রোধ করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ রয়েছে দিল্লি পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী।













