বাংলাহান্ট ডেস্ক: ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন বঙ্গের একেবারে দোরগোড়া এসে উপস্থিত হয়েছে। লক্ষ্য হল অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট। আর এবার সেই লক্ষ্য নিশ্চিত করতে একাধিক নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোট অনুষ্ঠিত হবে পশ্চিমবঙ্গে। ভোটকে কেন্দ্র করে যাতে কোনও রকম হিংসা বা অশান্তি না ছড়ায়, তা নিশ্চিত করতে আগাম প্রস্তুতি শুরু করেছে কমিশন ও কেন্দ্রীয় প্রশাসন।
বাংলার ভোটে (West Bengal Assembly Election 2026) মোতায়েন করা হচ্ছে কত কেন্দ্রীয় বাহিনী?
এই প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছে, রাজ্যে মোট ২৪০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে। ইতিমধ্যেই মাসের শুরুতে ৪৮০ কোম্পানি বাহিনী পাঠানো হয়েছে। বাকি বাহিনী ধাপে ধাপে পৌঁছবে রাজ্যে। প্রথম দফায় ৩১ মার্চ ৩০০ কোম্পানি বাহিনী আসবে, এরপর ৭, ১০, ১৩ ও ১৭ এপ্রিল যথাক্রমে ৩০০, ৩০০, ২৭৭ এবং ৭৪৩ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন: ইরানের প্রেসিডেন্টকে ফোন মোদীর! জানালেন ইদের শুভেচ্ছা, হরমুজ নিয়ে হল কী কথা?
শুধু ভোটের দিনই নয়, ভোটের পরবর্তী পরিস্থিতিতেও যাতে কোনও অশান্তি না ছড়ায়, তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ভোট মিটে যাওয়ার পরেও রাজ্যে প্রায় ৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রাখা হবে। মূলত ভোট-পরবর্তী হিংসা প্রতিরোধের লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
এবারের নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। শুধু ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের নিরাপত্তায় সীমাবদ্ধ না থেকে বুথ এলাকার আশপাশেও নজরদারি চালাবে তারা। কোথাও ভোটারদের হুমকি বা ভয় দেখানোর অভিযোগ পেলে সঙ্গে সঙ্গে হস্তক্ষেপ করতে পারবে বাহিনী। এমনকি গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে পুনর্নির্বাচনের পথেও হাঁটতে পারে কমিশন। ছাপ্পা ভোট, বুথ দখল বা অশান্তির মতো ঘটনাকে কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে সাফ বার্তা দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: সন্ত্রাস না থামালে আলোচনা নয়! সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা ভারতের
এদিকে ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) আগে রাজধানী কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুট মার্চ। পুলিশের তরফে তথাকথিত ‘ট্রাবল মেকার’দের চিহ্নিত করে সেই অনুযায়ী নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরে ইতিমধ্যে ৩০ কোম্পানি বাহিনী পৌঁছেছে এবং বিভিন্ন এলাকায় টহলদারি শুরু হয়েছে। একইভাবে রাজ্যের অন্যান্য জেলাতেও ধাপে ধাপে রুট মার্চ চালানো হবে, যাতে ভোটকে ঘিরে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়।












