বাংলাহান্ট ডেস্ক: যুদ্ধবিধ্বস্ত পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই কূটনৈতিক স্তরে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিল ভারত (India-Iran)। শনিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে ঈদ ও নওরোজের শুভেচ্ছা জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রীনরেন্দ্র মোদি। সংক্ষিপ্ত ফোনালাপে উৎসবের মরশুমে পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তিনি। একইসঙ্গে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয় দুই নেতার মধ্যে।
ভারত ও ইরানের (India-Iran) সম্পর্কে নয়া মোড়
নিজের এক্স হ্যান্ডেলে এই কথোপকথনের কথা জানান মোদি। তিনি লেখেন, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের সঙ্গে কথা বলে তাঁকে উৎসবের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে এই সময়টি অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বয়ে আনবে। পাশাপাশি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার ঘটনাও নিন্দা করেন তিনি। মোদির মতে, এই ধরনের আক্রমণ শুধু আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকেই বিপন্ন করছে না, বরং বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ব্যবস্থাকেও গুরুতরভাবে ব্যাহত করছে।
আরও পড়ুন: হরমুজ স্তব্ধ হলেও সরবরাহে নেই খামতি! সৌদি থেকে কীভাবে তেল আসছে ভারতে?
এই আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় হরমুজ প্রণালী সংক্রান্ত বিষয়। যুদ্ধের জেরে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় ভারতের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে ভারতের পতাকাবাহী জাহাজগুলির নিরাপদ ও স্বাভাবিক যাতায়াত নিশ্চিত করার বিষয়ে ইরানের সহায়তা চাওয়া হয়। কারণ, ভারতের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি আমদানি এই পথের উপর নির্ভরশীল।
এছাড়াও যুদ্ধের মধ্যে ইরানে আটকে পড়া ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় সাহায্য করায় তেহরান প্রশাসনের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি ইরান সরকারের এই সহযোগিতাকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাতের মধ্যে গত ২২ দিনে দ্বিতীয়বার ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বললেন মোদি, যা পরিস্থিতির গুরুত্বই তুলে ধরে।

আরও পড়ুন: সন্ত্রাস না থামালে আলোচনা নয়! সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা ভারতের
সূত্রের খবর, শুধু প্রধানমন্ত্রীর স্তরেই নয়, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর-সহ একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিকও নিয়মিতভাবে ইরানের (India-Iran) শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। এই ধারাবাহিক আলোচনার ফলেই যুদ্ধের মধ্যেও বেশ কয়েকটি জ্বালানিবাহী জাহাজ নিরাপদে ভারতের বন্দরে পৌঁছতে পেরেছে। ফলে আপাতত বড়সড় জ্বালানি সংকট এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।












