প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে মাটির নিচে মজুত থাকে কী পরিমাণ তেল? জানলে হবেন অবাক

Published on:

Published on:

Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সঙ্কট সৃষ্টি করছে। এই অস্থিরতার প্রভাব দেশের অভ্যন্তরে, বিশেষ করে গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রেই অনুভূত হচ্ছে। এমতাবস্থায়, পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে সরকার গ্যাস ও তেল সরবরাহ সংক্রান্ত নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে। তবে, সরকারি আশ্বাস সত্ত্বেও সোশ্যাল মিডিয়ায় পেট্রোল ও ডিজেল ঘাটতির গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে, একাধিক রাজ্যে সাধারণ মানুষ তাদের যানবাহনে তেল ভরতে পেট্রোল পাম্পে (Petrol Pump) ভিড় জমাচ্ছেন। এদিকে, স্বাভাবিকের তুলনায় চাহিদা হঠাৎ এতটাই বেড়ে গিয়েছে যে, অনেক জায়গায় আতঙ্কিত হয়ে কেনাকাটার হিড়িক পরিলক্ষিত হচ্ছে। এর ফলে পেট্রোল পাম্পগুলির দৈনিক মজুত সময়ের আগেই ফুরিয়ে যাচ্ছে। যার ফলে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়। তবে, বাস্তবে জ্বালানির কোনও ঘাটতি নেই।

একটি পেট্রোল পাম্পে (Petrol Pump) কী পরিমাণ পেট্রোল এবং ডিজেল মজুত থাকে:

অনেকেই নিয়মিতভাবে পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি ভরাতে গেলেও জানেন না যে একটি পেট্রোল পাম্পে কী পরিমাণ পেট্রোল এবং ডিজেল মজুত থাকতে পারে। বর্তমান প্রতিবেদনে এই প্রসঙ্গে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপিত করা হল। পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড এক্সপ্লোসিভস সেফটি অর্গানাইজেশন (PESO)-র মান অনুযায়ী, ভারতে ভূগর্ভস্থ পেট্রোল পাম্পের ট্যাঙ্কগুলির ধারণক্ষমতা সাধারণত ১৫,০০০ লিটার থেকে ৪৫,০০০ লিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। এই ধারণক্ষমতা পাম্পের অবস্থান এবং দৈনিক বিক্রির ওপর নির্ভর করে। মহানগরী এবং ব্যস্ত জাতীয় সড়কগুলিতে অবস্থিত পাম্পগুলিতে বিপুল চাহিদা মেটাতে বড় ধারণক্ষমতার ট্যাঙ্ক থাকে। অন্যদিকে ছোট শহর বা গ্রামীণ এলাকার পাম্পগুলিতে ছোট ট্যাঙ্ক থাকে।

How much oil is stored underground in a petrol pump?

সঙ্কট মোকাবিলার নিয়মকানুন: বর্তমান সময়ে সামগ্রিক পরিস্থিতি বিচার করে বাজারে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কঠোর নিয়মকানুন চালু করা হয়েছে। PESO-র নির্দেশিকা অনুযায়ী, যেকোনও পেট্রোল পাম্পের জন্য তার কমপক্ষে তিন দিনের গড় বিক্রির সমপরিমাণ সংরক্ষিত মজুত সর্বদা বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। এই নিয়মটি প্রয়োগ করা হয়েছে যাতে সাপ্লাই চেনে সাময়িক বিঘ্ন ঘটলেও সাধারণ গ্রাহকদের কোনও তাৎক্ষণিক অসুবিধা না হয়।

আরও পড়ুন: ‘এটাই সুযোগ’, IPL-এর আগে KKR অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানের দিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন আকাশ চোপড়া

এই প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি যে, ১২,০০০ থেকে ২০,০০০ লিটার ধারণক্ষমতার ট্যাঙ্কারগুলি মূলত শোধনাগার বা ডিপো থেকে পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি পরিবহণের জন্য ব্যবহৃত হয়। এগুলির চলাচল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত হয়। নিয়ম অনুযায়ী, ২৫,০০০ লিটারের বেশি জ্বালানি মজুত বা পরিবহণের জন্য সরাসরি সরকারি লাইসেন্স প্রয়োজন, এবং এর চেয়ে কম পরিমাণের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির অনুমতি লাগে।

আরও পড়ুন: হয়ে যান সচেতন! ১ এপ্রিল থেকে বদলে যাচ্ছে অনলাইন পেমেন্টের এই নিয়ম, প্রভাবিত হবেন গ্রাহকরা?

ভারতের এই সম্পূর্ণ জ্বালানি মজুত ও পরিবহণ ব্যবস্থা ‘পেট্রোলিয়াম বিধিমালা ২০০২’-এর অধীনে পরিচালিত হয়। ইন্ডিয়ান অয়েল (IOCL) এবং ভারত পেট্রোলিয়াম (BPCL)-এর মতো সরকারি তেল কোম্পানিগুলিও সরবরাহ ব্যবস্থা সুষ্ঠুভাবে চালু রাখার জন্য নিজস্ব কঠোর নির্দেশিকা প্রয়োগ করে।