বাংলা হান্ট ডেস্ক: বাবা বিজেপি কর্মী হওয়ায়, এবার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠল শাসক দলের বিরুদ্ধে। পূর্ব বর্ধমানের (Purba Bardhaman) খণ্ডঘোষে তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়েছে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে। হামলার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) খন্ডঘোষ ব্লকের বেরুগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি সেখ সাহাদ আলী ওরফে লকাইয়ের বিরুদ্ধে।
পূর্ব বর্ধমানে (Purba Bardhaman) মারধরের অভিযোগ উঠল উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীকে:
প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে জানা যাচ্ছে, খণ্ডঘোষে বোঁয়াইচন্ডী মায়ের মন্দিরের কাছে একটি দোকান রয়েছে দীপক অধিকারীদের। সেখানে এই ঘটনা ঘটে। জানা যাচ্ছে তাঁর ছেলে আস্তিক অধিকারীকে কয়েকজন তৃণমূলের কর্মী মিলে ব্যাপক হেনস্তা করে। পরবর্তীতে তাকে ঠেলে জলেও ফেলে দেওয়া হয়। গোটা দৃশ্য ধরা পড়েছে সিসিটিভি ফুটেজে।
এই ফুটেজ সামনে আসতেই আরও রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়। দীপকের দোকানে ভাঙচুর চালানো হয়। ওখানকার বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, তারাই দীপককে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেছেন। সেখান থেকে থানায় নিয়ে যান এবং অভিযোগ দায়ের করতে গেলে, তৃণমূল অঞ্চল সভাপতির নাম অভিযোগ পত্র থেকে বাদ দেওয়ার জন্য তাদের উপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। তিনি পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে বলেছেন, ‘পুলিশ তো সব তৃণমূল ঘনিষ্ঠ। পুলিশ প্রশাসনের প্রশ্রয়ে গোটা এলাকাই বর্তমানে দুষ্কৃতীদের আঁতুড়ঘরে পরিণত হয়েছে।’
আরও পড়ুন:‘আনম্যাপড’ ভোটারদের ঠিকানায় এবার সরাসরি পৌঁছবে কমিশন, শুরু হচ্ছে কড়া ‘ফিল্ড ইনকোয়ারি’
অন্যদিকে এই ঘটনার কথা শুনে জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক বাগবুল ইসলাম কিছু মন্তব্য করতে চাননি। তিনি শুধু বলেন ঘটনার বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি। তবে শুনেছি থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। সুতরাং পুলিশ প্রশাসন তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।

আরও পড়ুন: ‘মানুষের মতো বাঁচার অধিকার বন্দিদেরও আছে’, জেলের ভিড় কমাতে কড়া দাওয়াই হাইকোর্টের
গোটা ঘটনায় খণ্ডঘোষ ব্লকের বেরুগ্রাম অঞ্চলে চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা যথেষ্ট আতঙ্কে রয়েছেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে এবার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীকেও যে ছাড়া হয়নি তা সিসিটিভি ফুটেজ থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে এবং যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নিন্দার ঝড় উঠেছে। এ ব্যাপারে পুলিশ কতটা সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারে, সেদিকেই এখন নজর সকলের।












