বাংলা হান্ট ডেস্কঃ নতুন দল তৈরি করার পর থেকে আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছেন হুমায়ুন কবীর (Humayum Kabir)। প্রায় প্রতিদিনই সভা-মঞ্চ থেকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে কথা বলছেন তিনি। শনিবার রেজিনগরের সভাতেও একই ছবি দেখা গেল। সেখানে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করার পাশাপাশি আগের করা একটি বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য হিন্দু সমাজের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেন হুমায়ুন।
ক্ষমা চাইলেন হুমায়ুন (Humayun Kabir)
রেজিনগরের সভা থেকে এদিন হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir) নিজের পরিচিত ভঙ্গিতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেন। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে তাঁর ক্ষমা চাওয়ার প্রসঙ্গ। লোকসভা ভোটের সময় হুমায়ুন কবীর কিছু মন্তব্য করেছিলেন, যা নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন “সেদিন হিন্দু ভাইদের মনে আঘাত লেগেছিল। তাই লক্ষ লক্ষ মানুষের সামনে আমি করজোড়ে ক্ষমা চাইছি। ভবিষ্যতে আর কোনওদিন উস্কানিমূলক বা সাম্প্রদায়িক কথা বলব না। আপনারা আমার উপর ভরসা রাখতে পারেন।”
কেন তিনি সেদিন ওই ধরনের কথা বলেছিলেন, তার ব্যাখ্যাও দেন হুমায়ুন (Humayun Kabir)। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই তাঁকে ওই কথা বলতে হয়েছিল। তিনি বলেন, “বহরমপুরে অধীর চৌধুরীর বিরুদ্ধে ইউসুফ পাঠানকে জেতানোর জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশ মানতে গিয়েই আমি কিছু কথা বলেছিলাম।” তিনি আরও বলেন, তার আগের দিন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এসে তাঁকে আক্রমণ করেছিলেন। যোগী তাঁকে ‘দাঙ্গাবাজ’ বলেছিলেন এবং কঠোর ভাষায় হুমকি দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই সময় তৃণমূলের কোনও বড় নেতা তাঁর পাশে দাঁড়াননি। তাই তাঁকেই প্রতিবাদ করতে হয়েছিল। তবে হুমায়ুন স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সেই দিনের মন্তব্যের জন্য তিনি আজ অনুতপ্ত। তিনি বলেন, “আমি সেদিন যা বলেছিলাম, তার জন্য আমি দুঃখিত এবং ক্ষমাপ্রার্থী।”
সংখ্যালঘু প্রসঙ্গ নিয়েও এদিন কথা বলেন হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। তাঁর মতে, সংখ্যালঘু মানে শুধু মুসলিম নয়। আদিবাসী, তফসিলি জাতি এবং ওবিসি সম্প্রদায়ের মানুষরাও সংখ্যালঘু শ্রেণির মধ্যে পড়েন। কিন্তু রাজনীতিতে শুধু মুসলিমদেরই সংখ্যালঘু বলে দেখানো হয়।

আরও পড়ুনঃ অষ্টম পে কমিশনে কতটা বাড়বে বেতন? ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নিয়ে বড় আপডেট জানুন
কংগ্রেস ও বামফ্রন্টের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন “মুর্শিদাবাদের মুসলিমরা সব সময় ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিকেই সমর্থন করেছে। তারা কখনও সাম্প্রদায়িক হয়নি। কংগ্রেস ও বামেদের অনেক নেতাকে মুসলিম ভোটাররাই বারবার জিতিয়েছে। হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir) এই বক্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তাঁর ক্ষমা চাওয়া এবং তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ আগামী দিনে রাজনীতিতে নতুন প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন অনেকে।













