বাংলা হান্ট ডেস্কঃ মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে নতুন করে ঝড় তুললেন জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব অনেক আগেই তৈরি হয়েছিল। দল থেকে সাসপেন্ড হওয়ার পর তিনি আলাদা দল গঠন করেন। এবার সরাসরি বিস্ফোরক দাবি করে জানালেন মুর্শিদাবাদে বিধানসভা আসনের মধ্যে ১৪টি আসন তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য যোগাযোগ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস! তবে হুমায়ূন হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, মুর্শিদাবাদে তৃণমূলকে শূন্য করে দেবেন তিনি।
মুর্শিদাবাদের তৃণমূলকে শূন্য করার হুশিয়ারি হুমায়ুনের (Humayun Kabir)
হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir) বলেন, “আমাকে এবার ভরতপুর থেকেই তৃণমূল টিকিট দেবে কি না, সেই আলোচনা চলছিল। দু’দুটো ব্লক সভাপতি, জেলা সভাপতিকে আমার বিরুদ্ধে লাগিয়ে রেখেছিল তৃণমূল। আর এখন বলছে মুর্শিদাবাদের ২২টা আসনের মধ্যে ১৪টা তুমি নিয়ে নাও, আর ৮টা আমরা নিই। আমাদের সঙ্গেই থাকো। লজ্জা করে না? আজ ১৪টা সিট ছাড়তে চাইছ! আমি ২২টা আসনেই তৃণমূলকে শূন্য করব।”
হুমায়ুন (Humayun Kabir) আরও দাবি করেন, শুধু মুর্শিদাবাদ নয়, মালদহ, উত্তর দিনাজপুর এবং দক্ষিণ দিনাজপুর মিলিয়ে মোট ৪৯টি আসনের মধ্যে ৩৫টি আসন জয়ের লক্ষ্য নিয়েছেন তিনি। রেজিনগরের বাসিন্দাদের উদ্দেশে তিনি বার্তা দিয়ে বলেন, “রেজিনগরে আমার দলের যে-ই প্রার্থী হোক, ৭৮ হাজার ভোটে লিড চাই।” প্রসঙ্গত, একুশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে ভরতপুর থেকে জয়ী হয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। কিন্তু গত কয়েক মাসে দলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ক্রমশ খারাপ হতে থাকে। শেষপর্যন্ত তাঁকে সাসপেন্ড করে তৃণমূল কংগ্রেস। এরপরই তিনি নতুন দল গঠন করে তৃণমূল বিরোধী অবস্থান নেন।
এদিন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকেও তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। তিনি বলেন, “আমি খিদিরপুরে গিয়েছিলাম। আমাকে ঘিরে ধরে মারতে এসেছিল। সিপিএমের বিরুদ্ধে রাজনীতি করতে গিয়ে আমার বিরুদ্ধে ২৭টা মামলা হয়েছিল, ৮১ দিন জেল খেটেছি। তাই বলছি, আগামী দিনে ববি হাকিম যেদিন মুর্শিদাবাদে আসবে, ওর কলার ধরে নামাব। প্রয়োজনে আবার জেলে যাব, কিন্তু ওকে আস্ত ফেরত যেতে দেব না।”
হুমায়ুন আরও দাবি জানিয়ে বলেন, “সম্ভবত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোট ঘোষণা হবে। তারপর দুই মাস নির্বাচনের সময় থাকবে। সেই সময়ে তৃণমূলের ঝান্ডা ধরার লোক পর্যন্ত থাকবে না।”

আরও পড়ুনঃ প্রভিডেন্ট ফান্ড গ্রাহকদের জন্য খারাপ খবর! সুদ কমানোর পথে EPFO
হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir) এই দাবিকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বহরমপুরের বিজেপি বিধায়ক সুব্রত মৈত্র বলেন, “হুমায়ুন যা দাবি করছেন, তা যদি সত্যি হয়, তাহলে বুঝতে হবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় চাপে পড়েছেন। হুমায়ুনের ভোট কাটাকাটিতে তৃণমূল শূন্য হয়ে যেতে পারে। এতে তৃণমূলের আসল অবস্থাটা পরিষ্কার হয়ে গেল।” মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে হুমায়ুন কবীরের এই মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অবশ্য এ নিয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।












