বাংলা হান্ট ডেস্ক : রেজিনগরের উপনির্বাচন মিটেছে, এখন শুধু ফল ঘোষণার অপেক্ষা। তার মধ্যেই নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে কার্যত বড় সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। চোখে জল নিয়ে বুধবার সাংবাদিকদের সামনে দাঁড়িয়ে একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন নওদার বিধায়ক।
কী জানালেন হুমায়ুন কবীর(Humayun Kabir)?
রেজিনগরে ভোট চলাকালীন পুলিশের সঙ্গে হুমায়ুনের তীব্র বাদানুবাদ হয়। পুলিশের বিরুদ্ধে ভোট প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ তোলার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং গ্রেফতার করা হয়। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর মুক্তি পান তিনি। ঘটনাটি নিয়ে হুমায়ুনের দলের তরফে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।
মুক্তির পরদিনই নিজের ক্ষোভ প্রকাশ্যে আনেন AJUP প্রধান। তাঁর অভিযোগ, একজন বিধায়ককে এভাবে আটক করে রাখার ঘটনা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। পুলিশের ভূমিকার পাশাপাশি রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি। হুমায়ুন বলেন, “যে গণতান্ত্রিক নিয়মে কোনও নির্দিষ্ট কারণ ছাড়া একজন পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর একজন বিধায়ককে জোর করে তুলে নিয়ে ১২ ঘণ্টা আটকে রাখতে পারে, সেই গণতন্ত্রকে আমি ঘৃণা করি এবং সেই পুলিশমন্ত্রীকেও আমি এড়িয়ে চলতে চাই।”
এরপর হুমায়ুনের নিশানায় চলে আসেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রেজিনগরে গত কয়েক মাসে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ তুলে হুমায়ুন বলেন, “শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশমন্ত্রী থাকাকালীন তাঁর অধীনস্থ পুলিশ যেভাবে গত দু’মাস ধরে রেজিনগরবাসীর ওপর অত্যাচার করে গেল, তার প্রতিবাদ জানাচ্ছি। শুভেন্দু অধিকারীর মতো পুলিশমন্ত্রীর দয়াতে হুমায়ুন কবীর রাজনীতি করবেন না।”
এখানেই শেষ নয়। বিধানসভায় না যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথাও জানান নওদার বিধায়ক। তাঁর বক্তব্য, এলাকার মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ এবং তাঁদের জন্য কাজ চালু থাকবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে বিধানসভায় গিয়ে তিনি অংশ নেবেন না। ভোটের দিনের ঘটনা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হুমায়ুন বলেন, “একজন রাজনৈতিক দলের চেয়ারম্যান তাঁর নিজস্ব পার্টি অফিসে নিরাপদ নয়। সেখান থেকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে তুলে নিয়ে গিয়ে অবাধে ভোট লুট করল পুলিশ। তাই এই গণতন্ত্র মানতে মন সায় দিচ্ছে না।”

আরও পড়ুন :রাজ্যের আবেদনে সায় দিল কেন্দ্র! পুজোর আগেই আরও বাড়ল ডিজিপি সিদ্ধনাথ গুপ্তের চাকরির মেয়াদ
রেজিনগরের ভোটের ফল নিয়েও নিজের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, এই কেন্দ্রে বিজেপি বড় জয় পেতে পারে। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তের ভার নওদার মানুষের উপরেই রাখতে চাইছেন হুমায়ুন। তিনি বলেন, “আগামী দিনে নওদার মানুষের মত নেব, তাঁরা অনুমতি দিলে বিধায়ক পদও ছেড়ে দিতে পারি। সক্রিয় রাজনীতিও ছেড়ে দিতে পারি।” রেজিনগরের ভোট শেষ হওয়ার পর উপনির্বাচনের ফলাফলের অপেক্ষার মধ্যেই নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে হুমায়ুন কবীর। ৯ অক্টোবর রেজিনগরের ফল প্রকাশের পর পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।













