বাংলাহান্ট ডেস্ক: জাপানে (Japan) একটি মসজিদ নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিতর্ক ঘনীভূত হওয়ায় অস্বস্তিতে পড়েছে পাকিস্তান। অভিযোগ, জাপানের সাইতামা প্রিফেকচারের কাওয়াগো শহরে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়াই একটি মসজিদ নির্মাণ করেছেন প্রবাসী পাকিস্তানি নাগরিকদের একাংশ। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, যে জমিতে মসজিদটি গড়ে তোলা হয়েছে, সেটি পার্বত্য অরণ্য সংরক্ষিত এলাকার অন্তর্ভুক্ত এবং সেখানে স্থায়ী নির্মাণকাজের উপর কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। ফলে মসজিদটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই বিষয়টি এখন প্রশাসনিক তদন্তের আওতায় এসেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, মসজিদটি ভেঙে ফেলার দাবিও উঠেছে স্থানীয় মহলে।
জাপানে (Japan) বেআইনি মসজিদ নির্মাণের অভিযোগ পাকিস্তানি নাগরিকদের বিরুদ্ধে:
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ৪,৫০০ বর্গমিটার জমির উপর নির্মিত এই মসজিদটি সাদা ও সবুজ রঙের নকশায় তৈরি করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে জমিটির মালিকানা পরিবর্তনের পর দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু হয়। জাপানের (Japan) ফুজিমি এলাকার একটি রিয়েল এস্টেট সংস্থা থেকে জমিটি কাওয়াগোর ঠিকানায় স্থানান্তরিত হয়েছিল। তবে শহর পরিকল্পনা আইন অনুযায়ী ওই এলাকায় কোনও স্থায়ী ধর্মীয় বা বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের জন্য বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন ছিল বলে দাবি প্রশাসনের। সেই অনুমতি নেওয়া হয়নি বলেই অভিযোগ। ইতিমধ্যেই মসজিদটি অপসারণের জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জমা পড়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: এসেছিলেন IVF চিকিৎসার আশায়! দিল্লির হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে কাঁধে মাথা রেখে মৃত্যু আফ্রিকান দম্পতির
এই বিতর্ক আরও জটিল হয়েছে কারণ মসজিদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাপানে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আব্দুল হামিদ। ফলে ঘটনাটি শুধুমাত্র স্থানীয় প্রশাসনিক বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা কূটনৈতিক অস্বস্তির কারণও হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, সংরক্ষিত এলাকায় এই ধরনের নির্মাণ পরিবেশ ও নগর পরিকল্পনার নিয়মের পরিপন্থী। ইতিমধ্যেই কয়েকটি নাগরিক সংগঠন প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু করেছে। তাঁদের দাবি, ধর্মীয় পরিচয় নয়, বরং আইন লঙ্ঘনের অভিযোগের ভিত্তিতেই এই নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
ক্রমবর্ধমান বিতর্কের মুখে টোকিওতে পাকিস্তান দূতাবাসও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। দূতাবাসের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বেআইনি নির্মাণের সঙ্গে তাদের কোনও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পর্ক নেই। একই সঙ্গে জাপানে বসবাসকারী পাকিস্তানি নাগরিকদের স্থানীয় আইন ও প্রশাসনিক বিধিনিষেধ মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক বলেও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে দূতাবাস। এই বিবৃতিকে অনেকেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।

আরও পড়ুন: অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদনকারীদের জন্য জরুরি খবর, রেশন কার্ডের ক্যাটাগরি ভুল লিখলে হতে পারে সমস্যা
বর্তমানে মসজিদটির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে স্থানীয় প্রশাসনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের উপর। যদি তদন্তে অনুমোদনবিহীন নির্মাণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে কাঠামোটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ জারি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানি প্রবাসী সম্প্রদায়ের একাংশ বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধান চান। তবে এই ঘটনা জাপানে (Japan) প্রবাসী সম্প্রদায়ের ভূমিকা, স্থানীয় আইন মেনে চলার প্রয়োজনীয়তা এবং বিদেশের মাটিতে ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণ সংক্রান্ত নিয়মাবলি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে এটি পাকিস্তানের জন্যও একটি অস্বস্তিকর কূটনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যা আগামী দিনে দুই দেশের আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।













