বাংলা হান্ট ডেস্ক: সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিবর্তন ঘটছে মানুষের জীবনযাত্রায়। ভারতীয়দের মধ্যেও সেই রেশ পরিলক্ষিত হয়েছে। মূলত, ভারতে (India) বসবাসকারীদের মধ্যে ব্যয়ের ধরণ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। মানুষের প্রধান অগ্রাধিকার এখন আর শুধু মুদিখানার জিনিসপত্র কিংবা টিভি, রেফ্রিজারেটর বা টু-হুইলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং আজকের গ্রাহকরা ক্রমবর্ধমানভাবে ডিজিটাল পরিষেবা থেকে শুরু করে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, আন্তর্জাতিক ভ্রমণ, প্রিমিয়াম মোবাইল ডিভাইস এবং আরও সাশ্রয়ী জীবনযাত্রার দিকে ঝুঁকছেন। ইতিমধ্যেই এই সম্পর্কিত একটি রিপোর্ট সামনে এসেছে। মূলত, কোটাক মিউচুয়াল ফান্ডের ‘দ্য গ্রেট কনসাম্পশন শিফট’ রিপোর্ট অনুসারে, ভারতের বাজার ক্রমশ অভিজ্ঞতা ও সুবিধানির্ভর হয়ে উঠছে। এটি দেশের কমজাম্পশন প্যাটার্নে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনছে।
কোন কোন ক্ষেত্রে বিপুল খরচ করছে ভারতীয়রা (India)?
ভালো এক্সপিরিয়েন্সের জন্য বেশি খরচ: আমাদের দেশে সাধারণ মানুষ পূর্বে তাঁদের আয়ের একটি বৃহৎ অংশ গৃহস্থালীর সরঞ্জাম থেকে শুরু করে FMCG পণ্য, টু-হুইলার এবং দেশের মধ্যেই ভ্রমণের জন্য ব্যয় করত। তবে, এখন সেই চিত্রটি বদলে গেছে। মানুষ এখন ভালো এক্সপিরিয়েন্সের জন্য খরচ করছে। যার মধ্যে রয়েছে লাইভ ইভেন্ট, ডিজিটাল এন্টারটেনমেন্ট, গেমিং, প্রিমিয়াম গ্যাজেট ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, এবং অনলাইন পরিষেবার মত বিষয়।

প্রিমিয়াম পণ্যের ক্রয় বৃদ্ধি পেয়েছে: জানিয়ে রাখি যে, ভারতে প্রিমিয়াম পণ্যের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এই পরিবর্তনটি স্মার্টফোনের বাজারে বিশেষভাবে লক্ষণীয়। ৩০,০০০ টাকার বেশি দামের স্মার্টফোন এখন মোট বিক্রয়ের ২৬ শতাংশ দখল করে আছে। যেখানে ২০২০ সালে এই হার ছিল মাত্র ২০ শতাংশ। সব থেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সামগ্রিকভাবে স্মার্টফোন বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে না বাড়লেও, হাই-এন্ড এবং প্রিমিয়াম ফোনের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। এতে বোঝা যায় যে, মানুষ এখন কম সংখ্যক কিন্তু উন্নত মানের পণ্য কিনতে বেশি পছন্দ করছে।
এদিকে, ওই রিপোর্টে ভারতে Apple-এর ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৬ অর্থবর্ষ নাগাদ ভারত থেকে সংস্থাটির রেভিনিউ ১.৪৩ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। যা হিন্দুস্তান ইউনিলিভার লিমিটেডের রেভিনিউকেও ছাড়িয়ে যাবে। গত ৫ বছরে ভারতে Apple-এর ব্যবসা ৬.২ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। হিন্দুস্তান ইউনিলিভার লিমিটেডের গ্রোথ অনেক ধীর পরিলক্ষিত হয়েছে। এই পরিবর্তন ইঙ্গিত দেয় যে ভারতের নতুন যুগের ক্রেতারা এখন আর শুধু সাশ্রয়ী মূল্যের পণ্যই খুঁজছেন না, বরং ব্র্যান্ড, সেরা মান এবং স্ট্যাটাসের দিকেও খেয়াল রাখছেন।
আরও পড়ুন: ছিলেন কেএল রাহুলের সতীর্থ! ম্যাচ চলাকালীন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু প্রাক্তন রঞ্জি খেলোয়াড়ের
ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি পারিবারিক বাজেটে পরিবর্তন আনছে: উল্লেখ্য যে, ব্যয় করার অভ্যাসের পরিবর্তনের পাশাপাশি পরিবারগুলির ওপর আর্থিক চাপও বাড়ছে। বড় শহরগুলিতে বাড়ি ভাড়া দ্রুত বেড়েছে এবং এখন তা পরিবারের মাসিক খরচের একটি বড় অংশ দখল করে আছে। এর পাশাপাশি, EMI-এর বোঝাও ক্রমাগত বাড়ছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ৭ বছরে এমন ৫ বার এমন হয়েছে যখন মানুষের আয়ের চেয়ে EMI দ্রুত বেড়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের সঞ্চয় এবং অন্যান্য খরচ মেটানোর ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অর্থাৎ, একদিকে সাধারণ মানুষ বিলাসবহুল জীবনযাপন করতে চাইছে, অন্যদিকে ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি, বাড়ি ভাড়া এবং ঋণের কিস্তি পারিবারিক বাজেটের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
আরও পড়ুন: পায়ে চোট পেয়ে ছাড়লেন মাঠ! বিশ্বকাপে আদৌ খেলতে পারবেন মেসি? চিন্তা বাড়ছে আর্জেন্টিনা শিবিরে
ভবিষ্যতে কী হবে: কোটাক মিউচুয়াল ফান্ডের রিপোর্টের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি হল, ভারতে খরচের ধারা খাদ্যপণ্য থেকে ডেটা, ওটিটি এবং মোবাইলের দিকে সরে গেছে। আজকের ভারতীয় গ্রাহকরা কানেক্টিভিটি সহ গ্লোবাল এক্সপোজার, সুবিধা এবং উন্নত অভিজ্ঞতার জন্য বেশি অর্থ ব্যয় করছেন। গত ৮;বছরে বিদেশ ভ্রমণের ব্যয় ৫.৬ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়াও, বিদেশি বিনিয়োগ এবং ডিজিটাল পরিষেবার প্রতি ভারতীয়দের আগ্রহও দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মত অনুযায়ী, ভবিষ্যতে ভারতের গ্রাহক বাজার সম্পূর্ণরূপে অভিজ্ঞতা-নির্ভর এবং প্রিমিয়াম হবে। এর অর্থ হল, ভবিষ্যতে খরচ শুধু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দ্বারাই নির্ধারিত হবে না, বরং ডিজিটাল লাইফ স্টাইল, প্রিমিয়াম ব্র্যান্ড এবং গ্লোবাল এক্সপিরিয়েন্স দ্বারাও নির্ধারিত হবে।













