অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত নিতে অস্বীকার বাংলাদেশের! উল্টে ভারতকেই দুষল ঢাকা

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: বাংলাদেশ-ভারত (India-Bangladesh) সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও কথিত ‘পুশব্যাক’ ইস্যুকে কেন্দ্র করে ফের উত্তেজনা বৃদ্ধি পেল দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে। বাংলাদেশের অভিযোগ, গত ২৪ ঘণ্টায় একাধিকবার ভারত জোরপূর্বক কিছু ব্যক্তিকে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকা নয়াদিল্লির বিরুদ্ধে কূটনৈতিক আপত্তি জানিয়েছে এবং সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দাবি করেছে, সীমান্তের বিভিন্ন অংশে অন্তত ১০টি পৃথক ঘটনায় তারা এমন ব্যক্তিদের আটক করেছে, যাদের ভারতীয় দিক থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। এই অভিযোগ সামনে আসতেই দুই দেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

অনুপ্রবেশকারীদের ফেরানো নিয়ে ভারত-বাংলাদেশ (India-Bangladesh) সংঘাত

বাংলাদেশের (India-Bangladesh) তরফে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছিল, এই ধরনের ঘটনা সেই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘ আন্তর্জাতিক স্থলসীমান্ত ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিস্তৃত রয়েছে ৪,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি এলাকাজুড়ে। এই সীমান্তের বড় অংশ নদী, পাহাড়, বনাঞ্চল এবং দুর্গম ভূখণ্ডে অবস্থিত হওয়ায় নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষে প্রতিটি অংশে সর্বক্ষণ নজরদারি বজায় রাখা অত্যন্ত কঠিন। ফলে অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং সীমান্ত সংক্রান্ত অন্যান্য সমস্যাগুলি দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

আরও পড়ুন: বিদেশে বাতিল, দেশে অবাধ বিক্রি? ভারতের ৪৫০ খাদ্যপণ্য নিষিদ্ধ করল ইউরোপ, উঠছে প্রশ্ন

তবে বাংলাদেশের এই অভিযোগের বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি। ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী (বিএসএফ) এবং বিদেশ মন্ত্রকের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। যদিও ভারতের সীমান্তবর্তী রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ, অসম এবং ত্রিপুরায় অবৈধ অনুপ্রবেশের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। বিশেষ করে বিজেপি বারবার দাবি করেছে যে, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। ফলে এই ইস্যুটি দুই দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও কূটনৈতিক সম্পর্ক—উভয় ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

 

অন্যদিকে বিজিবি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করে কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে জোর করে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। তাদের দাবি, এ ধরনের প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক প্রোটোকল এবং দ্বিপাক্ষিক চুক্তির পরিপন্থী। বাংলাদেশের বক্তব্য অনুযায়ী, যদি কোনও ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশি নাগরিক হন এবং ভারতে অবৈধভাবে অবস্থান করে থাকেন, তাহলে তাঁকে ফেরত পাঠানোর জন্য নির্ধারিত কূটনৈতিক ও আইনি পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত। মুখের কথায় বা সীমান্তে সরাসরি চাপ সৃষ্টি করে কাউকে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলেও মনে করছে ঢাকা।

India-Bangladesh standoff over the return of infiltrators

আরও পড়ুন: আরও বিপাকে অসিত মজুমদার! প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ

এই পরিস্থিতির মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের সীমান্ত বৈঠকের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। নয়াদিল্লিতে ৮ থেকে ১১ জুন পর্যন্ত বিএসএফ এবং বিজিবির শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে সীমান্ত নিরাপত্তা, অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং কথিত ‘পুশ-ইন’ বা জোরপূর্বক প্রবেশ সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই বৈঠক দুই দেশের মধ্যে তৈরি হওয়া সাম্প্রতিক অচলাবস্থা দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। একই সঙ্গে সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে উভয় দেশের মধ্যে সমন্বয় ও পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসছে (India-Bangladesh)।