সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রুখতে যৌথ উদ্যোগে জোর! দিল্লিতে শেষ হল BSF-BGB বৈঠক

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: নয়াদিল্লিতে চার দিনব্যাপী মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক শেষে সীমান্ত নিরাপত্তা, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের বার্তা দিল ভারত ও বাংলাদেশ (India-Bangladesh)। ৮ থেকে ১১ জুন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) সম্মেলনে দুই দেশের প্রতিনিধিদল সীমান্তে মৃত্যু, পরিকাঠামোগত উন্নয়ন, সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা এবং উদীয়মান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে। সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রুখতে যৌথ উদ্যোগে জোর ভারত-বাংলাদেশের (India-Bangladesh)

বৈঠকে মাদক, অস্ত্র, জাল মুদ্রা, সোনা, চোরাচালানের পণ্য এবং মানব পাচারের মতো আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি অগ্রাধিকার পায়। উভয় পক্ষই স্বীকার করে যে সীমান্তবর্তী এলাকায় অপরাধী চক্রগুলির কার্যকলাপ রুখতে আরও সমন্বিত ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে। সেই কারণে যৌথ টহল বৃদ্ধি, গোয়েন্দা তথ্য দ্রুত আদান-প্রদান এবং সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে সম্মতি গড়ে ওঠে।

আরও পড়ুন: এবার বিপাকে মদন মিত্র? সাতসকালে বিধায়কের দুই বাড়িতে ED হানা, চলছে তল্লাশি

বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল বৈঠকে সীমান্তে কথিত ভারতীয় অনুপ্রবেশের বিষয়টি উত্থাপন করে। ঢাকা এই ধরনের ঘটনাকে অবৈধ, অমানবিক এবং আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেছে বলে বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকায় বাংলাদেশি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর কথিত গুলিবর্ষণের ঘটনাও আলোচনায় তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই ধরনের ঘটনা বন্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে। অন্যদিকে বিএসএফ স্পষ্ট জানিয়েছে যে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় তারা নির্ধারিত নিয়ম ও প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি অনুসরণ করেই কাজ করে থাকে।

সম্মেলন শেষে বিজিবি ও বিএসএফের যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, বৈঠকটি অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ, ইতিবাচক এবং ভবিষ্যতমুখী পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বর্তমান সীমান্ত পরিস্থিতির সামগ্রিক পর্যালোচনা করা হয় এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় হয়। সীমান্তবাসীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, অবৈধ কার্যকলাপ প্রতিরোধ এবং সীমান্তে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়েও উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।

India-Bangladesh to work together to prevent infiltration and smuggling at border

আরও পড়ুন: আরও প্যাঁচে আরজি কর কাণ্ডের সন্দীপ ঘোষ! শখের বাড়ি নিয়ে বড় নির্দেশ কলকাতা পুরসভার

বৈঠকে বিজিবি ও বিএসএফ আন্তঃসীমান্ত অপরাধ, বিদ্রোহী কার্যকলাপ এবং সীমান্ত নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করতে পারে এমন যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। যৌথ আলোচনাপত্রে স্বাক্ষরের মাধ্যমে চার দিনের সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে নিয়মিত সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক নভেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে। কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলের মতে, সীমান্ত সংক্রান্ত বিভিন্ন স্পর্শকাতর ইস্যু নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও এই বৈঠক দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে (India-Bangladesh)।