বাংলাহান্ট ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান শুল্ক উত্তেজনা ও একতরফা বাণিজ্য নীতির মধ্যেই ভারত এক ঐতিহাসিক কূটনৈতিক সাফল্য অর্জন করল। মঙ্গলবার ব্রাসেলসে ইউরোপীয় কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট আন্তনিও কোস্টা ও ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েনের উপস্থিতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (India-EU Free Trade Deal) সঙ্গে ভারতের প্রতীক্ষিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আন্তর্জাতিক মহলে এই চুক্তিকে বিশ্ব বাণিজ্যের নতুন সমীকরণ তৈরির মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সম্পন্ন ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়নের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (India-EU Free Trade Deal):
চুক্তি স্বাক্ষরের পর প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, এটি দুই অঞ্চলের জনগণের জন্য বিপুল সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে। তিনি উল্লেখ করেন যে বিশ্বের এই দুই প্রধান অর্থনৈতিক শক্তির অংশীদারিত্ব বিশ্বের মোট জিডিপির প্রায় ২৫ শতাংশ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের এক-তৃতীয়াংশের প্রতিনিধিত্ব করবে। ইইউ ইতিমধ্যেই ভারতের অন্যতম বৃহত্তম বাণিজ্যিক সহযোগী; ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৩৫ বিলিয়ন ডলার।
আরও পড়ুন: সাধারণতন্ত্র দিবসে পতাকা উত্তোলনের পর একী করলেন IAS টপার! ভিডিও ভাইরাল হতেই শুরু বিতর্ক
এই চুক্তির পথ যুগান্তকারী ছিল। ২০০৭ সাল থেকে শুরু হওয়া আলোচনা দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে চলেছে নানা টানাপোড়েন ও মতপার্থক্যের মধ্য দিয়ে। চুক্তির পূর্ণ শর্তাবলী এখনো প্রকাশ্যে না এলেও, কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, উচ্চমূল্যের ইউরোপীয় গাড়ির উপর ভারতের শুল্কে উল্লেখযোগ্য ছাড় দেওয়া হতে চলেছে। যেসব গাড়ির আমদানি মূল্য ১৫ হাজার ইউরোর বেশি, সেগুলির উপর বর্তমান ১১০ শতাংশ শুল্ক কমে প্রায় ৪০ শতাংশে নামতে পারে, যার ফলে ভারতের বাজারে বিলাসবহুল ইউরোপীয় গাড়ির দাম ব্যাপকভাবে হ্রাস পেতে পারে।
চুক্তিতে শুল্ক হ্রাসের আওতায় বিদেশি ওয়াইনও থাকতে পারে, যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য সুলভ করে তুলবে। তবে সংবেদনশীল কৃষি খাত, বিশেষত দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য এই চুক্তির বাইরে রাখা হয়েছে। উৎপাদন, প্রযুক্তি, শক্তি ও ওষুধ শিল্পের মতো কৌশলগত ক্ষেত্রগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন ধাপে ধাপে হবে এবং আনুমানিক ২০২৭ সালের মধ্যে ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার কথা।

আরও পড়ুন: বিধানসভা ভোটের আগে বিরাট স্বস্তি, শুভেন্দু অধিকারীর মামলায় বড় নির্দেশ হাইকোর্টের
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন আগ্রাসন ও বৈশ্বিক বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে এই চুক্তি ভারতের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন ও অর্থনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিশ্ব বাণিজ্যে তার ভূমিকাকে পুনর্বিন্যাস করবে। এটি ইউরোপীয় বাজারে ভারতের প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ ও বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

















