‘রাশিয়ার তেল কিনতে কারও অনুমতি লাগবে না’, আমেরিকার ‘ছাড়’ বিতর্কে স্পষ্ট বার্তা কেন্দ্রের

Published on:

Published on:

India gave a clear message on Russian oil imports.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: রাশিয়ার থেকে তেল কেনার জন্য ভারতের (India) অন্য কোনও দেশের অনুমতি লাগবে না’, স্পষ্ট ভাষায় এমনটাই জানিয়ে দিল কেন্দ্রীয় সরকার। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আবহে যখন গোটা বিশ্বজুড়েই তেল ও গ্যাসের ঘাটতির আশঙ্কা শুরু হয় সেসময় ভারতের রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে আমেরিকা একটি বিবৃতি জারি করে। সেখানে বলা হয় ভারতকে ৩০ দিনের জন্য রুশ তেল কেনার ক্ষেত্রে “ছাড়” দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ ট্রাম্পের অনুমতি মেলাতেই এবার ভারত রাশিয়া থেকে কয়েকদিনের জন্য তেল কিনতে পারবে এমনটাই বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এরপরই বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি প্রশ্ন তোলে, কীভাবে আমেরিকা ভারতের তেল কেনার বিষয়ে অনুমতি দিতে পারে। সেই বিতর্কের মাঝেই কেন্দ্রীয় সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে, জ্বালানি কেনাবেচার ক্ষেত্রে ভারত সম্পূর্ণভাবে নিজস্ব স্বার্থ ও নীতির ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেয়।

রুশ তেল আমদানি নিয়ে স্পষ্ট বার্তা ভারতের (India):

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে বর্তমানে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে অনিশ্চয়তা থাকলেও ভারতের জ্বালানি সরবরাহ আপাতত এখনও কোনও চিন্তার কোনও কারণ নেই। সরকারের তরফে জানানো হয়, গত কয়েক বছরে ভারত তার অপরিশোধিত তেলের উৎস যথেষ্ট উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। আগে যেখানে ২৭টি দেশ থেকে তেল আমদানি করা হত, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০টি দেশে। পাশাপাশি জ্বালানি পরিবহণের জন্য ইতিমধ্যে একাধিক বিকল্প রুটও নিশ্চিত করা হয়েছে, যাতে কোনও একটি অঞ্চলে সমস্যা দেখা দিলেও সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব না পড়ে।

আরও পড়ুন: করেছিলেন ট্রাম্পকে হত্যার ষড়যন্ত্র! পাকিস্তানে প্রশিক্ষণ, অবশেষে দোষী সাব্যস্ত পাক নাগরিক

সরকারের তরফে আরও জানানো হয় যে, জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই ভারত বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে তেল আমদানি করে থাকে। যেখানে সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক দাম এবং সাশ্রয়ী শর্ত পাওয়া যায়, সেখান থেকেই তেল কেনা হয়। আমেরিকার ঘোষিত ৩০ দিনের ছাড়ের সময়সীমার মধ্যেও রাশিয়ার থেকে তেল আমদানি অব্যাহত রেখেছে ভারত। যদিও কেন্দ্র স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই ছাড়কে কোনও অনুমতি হিসেবে দেখা ঠিক নয়। রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ভারত অন্য কোনও দেশের উপর নির্ভরশীল নয়।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসেও ভারত বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত রুশ তেল আমদানি করেছে। এখনও রাশিয়াই ভারতের সবচেয়ে বড় অপরিশোধিত তেল সরবরাহকারী দেশ হিসেবে রয়েছে। পাশাপাশি সরকার জানিয়েছে যে, দেশের কৌশলগত ও বাণিজ্যিক ভান্ডারে বর্তমানে ২৫ কোটি ব্যারেলেরও বেশি অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য মজুত রয়েছে। এই মজুত দিয়ে অন্তত সাত থেকে আট সপ্তাহ পর্যন্ত দেশের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।

India gave a clear message on Russian oil imports

আরও পড়ুন: বিশ্বজুড়ে ঘনিয়ে আসছে সঙ্কট? ফের বাড়ছে খাদ্যসামগ্রীর দাম, রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টে বাড়ছে উদ্বেগ

অন্যদিকে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট সামাজিকমাধ্যম এক্সে একটি পোস্ট করে ভারতের প্রশংসা করেন। তিনি সেই পোস্টে লেখেন, ভারত একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার এবং বিকল্প হিসেবে মার্কিন তেল কেনার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন। তবে ভারত সরকারের তরফে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, আগাগোড়াই জ্বালানি নীতির ক্ষেত্রে ভারতের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে স্বাধীন এবং জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতেই নেওয়া হয়ে এসেছে আর ভবিষ্যতেও তাই হবে। এদিন কেন্দ্রের তরফে পরিষ্কার বলে দেওয়া হয় যে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি যেমনই হোক, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে।