বাংলাহান্ট ডেস্ক: পাঁচ মাসের বিরতির পর ফের বিশ্বজুড়ে খাদ্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। শুক্রবার একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে এই তথ্য জানিয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জের (United Nations) খাদ্য ও কৃষি সংস্থা ফুড অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচার অর্গানাইজেশন (এফএও)। রিপোর্ট অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে চলতি যুদ্ধের আবহে আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন জিনিসের সরবরাহ ও চাহিদার পরিবর্তনের হয়েছে। যার জেরে ফেব্রুয়ারি মাসে খাদ্যপণ্যের সামগ্রিক মূল্যবৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। এর ফলে বিশ্ব খাদ্যবাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
খাদ্যসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জের (United Nations) রিপোর্ট
এফএও-র প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে সংস্থার খাদ্যপণ্য সূচক বা ফুড প্রাইস ইনডেক্স দাঁড়িয়েছে ১২৫.৩ পয়েন্টে। যা জানুয়ারির তুলনায় প্রায় ০.৯ শতাংশ বেশি। জানা গিয়েছে, মূলত গম-সহ বিভিন্ন দানাশস্য, ভোজ্য তেল এবং মাংসের দাম বৃদ্ধির কারণেই এই সূচক বেড়েছে। যদিও একই সময়ে কিছু খাদ্যপণ্যের দাম কিছুটা কমেছেও, তবুও সামগ্রিকভাবে মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা থামানো যায়নি।
আরও পড়ুন: শহরের কোলাহল ছেড়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে ঘুরে আসুন দক্ষিণ ভারতের সর্বোচ্চ চূড়া আনামুদি
রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে ভোজ্য তেলের দাম যথেষ্ট উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত মাসে এই খাতে প্রায় ৩.৩ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে, যা ২০২২ সালের জুনের পর সবচেয়ে বেশি। পাশাপাশি গমের দামও বেড়েছে প্রায় ১.১ শতাংশ। তবে, চালের দাম তুলনামূলকভাবে কম বৃদ্ধি পেয়েছে, প্রায় ০.৪ শতাংশ। তবে সব খাদ্যপণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে মাংসে, যেখানে দাম বেড়েছে প্রায় ৮ শতাংশ।
তবে সব জিনিসের ক্ষেত্রে এই মূল্যবৃদ্ধি দেখা যায়নি। এফএও-র তরফে জানানো হয়েছে যে, ফেব্রুয়ারি মাসে দুগ্ধজাত পণ্যের দাম কিছুটা কমেছে। জানুয়ারির তুলনায় এই খাতে দাম কমেছে প্রায় ১.২ শতাংশ। একইভাবে চিনির দামেও কিন্তু উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে, যা প্রায় ৪.১ শতাংশ কমেছে। ফলে কিছু পণ্যের দাম কমলেও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি সামগ্রিক সূচককে উপরের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

আরও পড়ুন: ডাক্তারির ডিউটি সামলে করেছেন ১৩ ঘন্টা পড়াশোনা! UPSC-তে ভারতসেরা অনুজ অগ্নিহোত্রী
তবে এই মূল্যবৃদ্ধি হলেও আন্তর্জাতিক বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি আগের বছরের তুলনায় আপাতত এখনও কিছুটা স্থিতিশীল বলে মনে করা হচ্ছে। এফএও জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে খাদ্যসামগ্রীর দাম এখনও এক বছর আগের তুলনায় প্রায় ১ শতাংশ কম। এছাড়া রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে খাদ্যপণ্যের দাম যে উচ্চতায় পৌঁছেছিল, তার তুলনায় বর্তমান মূল্য প্রায় ২২ শতাংশ কম। তবুও বিশ্ববাজারে সংঘাত এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের অনিশ্চয়তার কারণে ভবিষ্যতে খাদ্যমূল্য নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।












