বাংলাহান্ট ডেস্ক: বাংলাদেশে (Bangladesh) আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে চলা সাধারণ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য ভারতকেও আনুষ্ঠানিক ভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ঢাকা। রবিবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস জানান, ভারত-সহ একাধিক দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাকে নির্বাচন পর্যবেক্ষক হিসেবে তলব করা হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত ১১টি দেশ বাংলাদেশের এই আমন্ত্রণের কোনও জবাব দেয়নি, যার মধ্যে ভারতের নামও রয়েছে। ফলে ভোটের দিন আদৌ ভারত সরকারের তরফে কোনও পর্যবেক্ষক দল বাংলাদেশে যাবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত নয়।
বাংলাদেশে (Bangladesh) নির্বাচনী পর্যবেক্ষণে আমন্ত্রিত ভারতও:
ইউনূসের বক্তব্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধি মিলিয়ে মোট ৩৩০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছেন। তাঁর আশা, শেষ মুহূর্তে আরও কয়েকটি দেশ সাড়া দিলে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ভারত ছাড়াও নেপাল, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, মিশর, ফ্রান্স, কুয়েত, মরক্কো, নাইজেরিয়া এবং রোমানিয়ার তরফে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। তবে বেশ কয়েকটি দেশ ও সংস্থা ইতিমধ্যেই পর্যবেক্ষক পাঠাতে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা।
আরও পড়ুন:পাকিস্তানের ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ICC! PCB-র বিরুদ্ধে নেওয়া হবে এই ৫ টি অ্যাকশন?
অন্তর্বর্তী সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কো-অপারেশন বা ওআইসি-সহ ছ’টি আন্তর্জাতিক সংগঠন মোট ৬৩ জন প্রতিনিধি পাঠানোর কথা নিশ্চিত করেছে। এ ছাড়া ১৬টি দেশ, ৩২টি আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরাও এই নির্বাচনের পর্যবেক্ষণে থাকবেন। এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস থেকে ২৮ জন, কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট থেকে ২৫ জন, ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট থেকে সাত জন এবং ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউট থেকে এক জন পর্যবেক্ষক অংশ নেবেন।
ইউনূসের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগের তিনটি সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ১৫৮, ১২৫ এবং মাত্র চার জন। সেই তুলনায় এ বারের নির্বাচন নজরদারির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক উপস্থিতি দ্বিগুণেরও বেশি। অন্তর্বর্তী সরকারের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এখনও বহু দেশের সিদ্ধান্ত বাকি থাকায় পর্যবেক্ষকের সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারের দাবি, এই নির্বাচন আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনেই আয়োজন করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: মার্কিন শুল্কের ধাক্কা সামলাতে বাজেটে বড় দাওয়াই, কর কমিয়ে রপ্তানিতে জোর কেন্দ্রের
৩০০টি সংসদীয় আসনে এ বার ৫০টিরও বেশি রাজনৈতিক দলের প্রায় দু’হাজার প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে এই নির্বাচনে থাকছে না ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামি লিগ, যার কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ইউনূস আগেই জানিয়েছেন, তাঁর তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচন ভবিষ্যতে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মানদণ্ড হয়ে থাকবে। অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিলেও রাজনৈতিক বাস্তবতা ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার দিকেই এখন তাকিয়ে ঢাকা।












