বাংলাহান্ট ডেস্ক: ২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে (Union Budget) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ শতাংশ শুল্কের সম্ভাব্য ধাক্কা মোকাবিলা ও রপ্তানি প্রতিযোগিতা বজায় রাখতে একাধিক শুল্ক হ্রাস ও উৎপাদন বৃদ্ধির পদক্ষেপের রূপরেখা তুলে ধরেছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। রবিবার বাজেট পেশকালে তিনি স্পষ্ট করেন, রাশিয়া থেকে তেল আমদানির কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক যাতে ভারতের শিল্প ও রপ্তানিকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে, সেজন্য এই নীতিগত হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে।
মার্কিন শুল্কের ধাক্কা সামলাতে রপ্তানিতে কর বাজেটে (Union Budget 2026) বড় পদক্ষেপ:
রপ্তানি সহায়তার অংশ হিসেবে শ্রমনির্ভর খাতগুলিকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য আমদানিকৃত শুল্কযোগ্য পণ্যের শুল্ক হার ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ প্রস্তাব করা হয়েছে। বস্ত্র, চামড়া ও সামুদ্রিক খাদ্য শিল্পকে সহায়তা করতে সামুদ্রিক খাদ্য প্রক্রিয়াকরণে ব্যবহৃত নির্দিষ্ট উপকরণের শুল্কমুক্ত আমদানির সীমা বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া, চামড়া ও সিন্থেটিক জুতো রপ্তানিতে বিদ্যমান শুল্ক ছাড় এখন আমদানিকৃত জুতোর উপরের অংশ রপ্তানির ক্ষেত্রেও প্রসারিত করা হলো।
আরও পড়ুন: পরীক্ষার দিনে ঝুঁকি কমানোর হেল্পলাইন, মাধ্যমিকের ‘গার্ড’ নিয়ে যেকোনো সমস্যায় কল করুন এই নম্বারে
তবে সংশ্লিষ্ট খাতগুলির পারফরম্যান্স একইরকম নয়। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের এপ্রিল-ডিসেম্বরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি ০.২৩ শতাংশ কমে ৩.৩ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, একই সময়ে সামুদ্রিক খাদ্য রপ্তানি ১৫.৫৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৬.৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এই বৈষম্য কাটাতে বাজেটের শুল্ক ছাড় কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে অর্থনৈতিক মহলে এখনো সন্দেহ রয়েছে।
উৎপাদন খাতকে উদ্দীপ্ত করতে একাধিক মৌলিক শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষা খাতের রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও অসামরিক বিমান নির্মাণে ব্যবহৃত আমদানিকৃত কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশ মৌলিক শুল্ক থেকে অব্যাহতি পাবে। এছাড়া মাইক্রোওয়েভ ওভেনের যন্ত্রাংশ, ব্যাটারি ও লিথিয়াম-আয়ন কোষ উৎপাদনের মূলধনী পণ্য এবং সৌর কাচ তৈরির সোডিয়াম অ্যান্টিমোনেট আমদানিতেও শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ খনিজ প্রক্রিয়াকরণের যন্ত্রপাতির উপরও মৌলিক শুল্ক মওকুফ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: সিন্ডিকেট যুদ্ধ নাকি পরিকল্পিত হামলা? গোলপার্কে ভয়াবহ তাণ্ডব দুষ্কৃতিদের, বোমা-গুলিতে রক্তাক্ত এলাকা
নবায়নযোগ্য শক্তি, পরিকাঠামো ও পারমাণবিক বিদ্যুৎ খাতকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বাজেটে। একটি পরিকাঠামো ঝুঁকি গ্যারান্টি তহবিল গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যা ঋণদাতাদের আংশিক গ্যারান্টি দেবে। সব পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় আমদানির উপর মৌলিক শুল্ক ছাড় ২০৩৫ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এই সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার বিশ্ব বাণিজ্যের অনিশ্চয়তার মধ্যেও দেশের উৎপাদন ও রপ্তানি খাতের স্থিতিস্থাপকতা বাড়াতে চাইছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।












