ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের মধ্যেই নিজের শক্তি বাড়াল ভারত! সম্পন্ন হল ৫,০৮৩ কোটির বড় চুক্তি

Published on:

Published on:

India increased its strength in the Iran-Israel war.
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সামরিক দিক থেকে ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে ভারত (India)। এই রেশ বজায় রেখেই মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের আবহে ভারত তার সামুদ্রিক ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার জন্য ফের একটি বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রক প্রায় ৫,০৮৩ কোটি মূল্যের ২ টি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুমোদন করেছে। মূলত, বিশ্বব্যাপী অনিশ্চিত পরিস্থিতি এবং সামুদ্রিক সীমান্ত সুরক্ষিত করার বৃহত্তর প্রয়োজনের স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বড় পদক্ষেপ ভারতের (India):

এই পদক্ষেপে সরকার HAL-এর সঙ্গে ২,৯০১ কোটি টাকার একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। যার অধীনে ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী ছয়টি অ্যাডভান্সড লাইট হেলিকপ্টার (ALH) Mk-III (মেরিটাইম রোল) পাবে। এগুলি হল আধুনিক টুইন-ইঞ্জিন হেলিকপ্টার। যা বিদ্যমান হেলিকপ্টারগুলির তুলনায় আরও সক্ষম এবং নিরাপদ বলে মনে করা হয়।

India increased its strength in the Iran-Israel war.

সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই হেলিকপ্টারগুলি স্থলে থাকা বিমান ঘাঁটি থেকে উড়তে পারে এবং সমুদ্রে চলমান জাহাজ থেকেও পরিচালনা করা যেতে পারে। এগুলি সামুদ্রিক নজরদারি থেকে শুরু করে সন্দেহজনক কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ, ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান এবং জেলেদের সুরক্ষা সহ বিভিন্ন মিশনের জন্য ব্যবহৃত হবে। সরকার জানিয়েছে যে এই হেলিকপ্টারগুলি মোতায়েন হলে এগুলি কৃত্রিম দ্বীপ থেকে শুরু করে সমুদ্রঘাঁটি এবং পরিবেশ সুরক্ষার মতো কাজেও সাহায্য করবে।

আত্মনির্ভর ভারতকে উৎসাহিত করবে: জানিয়ে রাখি যে, এই প্রকল্পে ২০০ টিরও বেশি MSME কোম্পানি অংশগ্রহণ করবে। যার ফলে প্রায় ৬৫ লক্ষ ঘন্টার কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এর অর্থ হল এই চুক্তি কেবল নিরাপত্তার জন্যই নয়, বরং কর্মসংস্থান এবং দেশীয় শিল্পের জন্যও প্রত্যক্ষভাবে উপকারী হবে।

আরও পড়ুন: ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধে মাথায় হাত আম্বানি-আদানির! লাফিয়ে কমল মোট সম্পদের পরিমাণ

নৌবাহিনীর জন্য উন্নত মিসাইল সিস্টেম: এদিকে, আরও একটি চুক্তির দ্বিতীয় অংশটি রয়েছে সারফেস-টু-এয়ার ভার্টিক্যাল লঞ্চ শিল মিসাইল সিস্টেমের জন্য। যেটির জন্য খরচ হবে ২,১৮২ কোটি টাকা। এই চুক্তিটি রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিরক্ষা রপ্তানি সংস্থা, জেএসসি রোসোবোরোনেক্সপোর্টের সঙ্গে স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই মিসাইল সিস্টেম ভারতীয় নৌবাহিনীর ফ্রন্টলাইন যুদ্ধজাহাজগুলিকে আকাশ থেকে আসা হুমকির বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা প্রদান করবে। সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, যেকোনও আবহাওয়ায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো যাবে এবং শত্রু বিমান, ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ জাহাজগুলিকে রক্ষা করার ক্ষমতা।

আরও পড়ুন: জমে উঠেছে T20 বিশ্বকাপের লড়াই! সেমিফাইনালের আগে বড় ঘোষণা ICC-র

এটি নৌবাহিনীর বহু-স্তরীয় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মতে, এই চুক্তি ভারত-রাশিয়া প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বকেও শক্তিশালী করবে। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে, ভারতের এই পদক্ষেপ স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে, আমাদের দেশ তার সীমান্ত এবং সামুদ্রিক স্বার্থের সুরক্ষার সাথে কোনও আপোষ করবে না।