বর্তমানে ইরানের সঙ্গে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যুদ্ধের আবহে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত হচ্ছে গোটা বিশ্ব। এদিকে, এই যুদ্ধের আঁচ এসে পড়েছে ভারতের শ্রেষ্ঠ দুই ধনকুবেরের মোট সম্পদেও। উল্লেখ্য যে, দেশের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি মুকেশ আম্বানি এবং দ্বিতীয় ধনী ব্যক্তি গৌতম আদানি (Mukesh Ambani-Gautam Adani) একদিনে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। গত সোমবার শেয়ার বাজারে তীব্র পতন দেখা যায়। যার ফলে আদানি গ্রুপ এবং মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ প্রভাবিত হয়েছে। এর ফলে, দুই ধনকুবেরের মোট সম্পদে বিশাল পতন ঘটে।
আম্বানি-আদানির (Mukesh Ambani-Gautam Adani) মোট সম্পদে বিপুল পতন:
ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার্স ইনডেক্সের তালিকা অনুযায়ী, গত সোমবার সম্পদ হারানো শীর্ষ ১০ জন বিলিয়নেয়ারের মধ্যে, ফ্রান্সের বার্নার্ড আর্নল্ট শীর্ষে রয়েছেন। তাঁর সম্পদ মোট ৮.৫৬ বিলিয়ন ডলার কমেছে। ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার্স ইনডেক্সে মোট সম্পদের দিক থেকে আর্নল্ট ৭ নম্বরে রয়েছেন। বর্তমানে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ১৭৩ বিলিয়ন ডলার। এদিকে, সোমবার আমানসিও ওর্তেগা ৭.৬৬ বিলিয়ন ডলার এবং ওয়ারেন বাফেট ৭.৩০ বিলিয়ন ডলার হারিয়েছেন। এই ক্ষতির পর বাফেট ধনকুবেরদের তালিকায় শীর্ষ ১০ থেকে ছিটকে পড়েছেন। এছাড়াও, ফ্রাঁসোয়া বেটেনকোর্ট মেয়ার্স ৪.৬২ বিলিয়ন ডলার হারিয়েছেন। অন্যদিকে, ল্যারি পেজ ৪.১৩ বিলিয়ন ডলার হারিয়েছেন। সের্গেই ব্রিনও ৩.৮১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

ভারতীয় ধনকুবেররা কত ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন: জানিয়ে রাখি যে, মুকেশ আম্বানি ২.৯৩ বিলিয়ন ডলার এবং গৌতম আদানি ২.৯০ বিলিয়ন ডলার হারিয়েছেন। বর্তমানে মুকেশ আম্বানির মোট সম্পদের পরিমাণ হল ৯১.২ বিলিয়ন ডলার। তিনি শ্রেষ্ঠ ধনকুবেরদের তালিকায় রয়েছেন ১৯ নম্বর স্থানে। এদিকে, গৌতম আদানির মোট সম্পদের পরিমাণ ৭৮.৮ বিলিয়ন ডলার। তিনি এই তালিকায় রয়েছেন ২১ নম্বর স্থানে। সোমবারের শেয়ার বাজারের পতন এবং তাঁদের কোম্পানির শেয়ারের পতনের কারণে অন্যান্য ভারতীয় ধনকুবেররাও ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। লক্ষ্মী মিত্তলের ৯৪১ মিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও, শিব নাদের ৫৬৩ মিলিয়ন ডলার এবং রাহুল ভাটিয়া ৫২৭ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
আরও পড়ুন: জমে উঠেছে T20 বিশ্বকাপের লড়াই! সেমিফাইনালের আগে বড় ঘোষণা ICC-র
এছাড়াও, শোপুর মিস্ত্রি ৪৬৯ মিলিয়ন ডলার হারিয়েছেন। অপরদিকে, বিক্রম লাল ৩৬০ মিলিয়ন ডলার হারিয়েছেন। ভারতের সবচেয়ে ধনী মহিলা শিল্পপতি সাবিত্রী জিন্দাল ৩৪৩ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। কেপি সিংয়ের মোট সম্পদও ৩৩৯ মিলিয়ন ডলার কমেছে। এছাড়াও, আজিম প্রেমজির মোট সম্পদও ৩১৮ মিলিয়ন ডলার কমেছে।
আরও পড়ুন: যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত! চাঞ্চল্যকর দাবির মাধ্যমে কী জানালেন পাক প্রেসিডেন্ট?
সোমবার পতনের ঝড় বয়ে গেছে: জানিয়ে রাখি যে, পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা বিনিয়োগকারীদের মনোভাবের ওপর প্রভাব ফেলার কারণে সোমবার দেশের শেয়ার বাজারে তীব্র পতন দেখা দিয়েছে। বিএসই সেনসেক্স ১,০৪৮ পয়েন্ট কমেছে। যেখানে এনএসই নিফটি ৩১৩ পয়েন্ট কমেছে। বাজারে বিনিয়োগকারীদের ৬.৬৯ লক্ষ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। ইতিমধ্যেই, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারের দাম ২.৫৮ শতাংশ কমেছে এবং আদানি গ্রুপের অন্তর্গত শেয়ারগুলিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ওপর এবং আদানি ও আম্বানির মোট সম্পদেও এই প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছে।












