বাংলাহান্ট ডেস্ক: দেশের নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থাকে এক নতুন উচ্চতায় নিতে মহাকাশে বিশাল এক নেটওয়ার্ক গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত (India) সরকার। ২০২৯ সালের মধ্যে মোট ৫২টি অত্যাধুনিক সামরিক নজরদারি উপগ্রহ উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা অনুমোদিত হয়েছে। ‘SBS-3’ নামক এই গোপনীয় মহাকাশ প্রকল্পের জন্য প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। প্রতিরক্ষা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এই কর্মসূচির প্রথম উপগ্রহটি ২০২৬ সালের এপ্রিল নাগাদ মহাকাশে পাঠানো হতে পারে।
মহাকাশে ৫২টি মিলিটারি নজরদারি স্যাটেলাইট পাঠাচ্ছে ভারত (India)
এই প্রজন্মের উপগ্রহগুলির মূল লক্ষ্য হল, সর্বদা এবং সর্বপ্রকার আবহাওয়ায় ভারতের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে অত্যন্ত নির্ভুল ও নিরবচ্ছিন্ন তথ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা। নতুন প্রযুক্তির ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল ক্যামেরা, ইনফ্রারেড সেন্সর এবং সিন্থেটিক অ্যাপারচার রাডার (এসএআর) সংযুক্ত থাকবে এসব উপগ্রহে। এর ফলে কেবল দিনের আলোতেই নয়, রাতের বেলা বা মেঘ, বৃষ্টি ও কুয়াশাচ্ছন্ন অবস্থাতেও শত্রুপক্ষের কার্যকলাপের স্পষ্ট চিত্র পাওয়া সম্ভব হবে।
আরও পড়ুন: ১৭ বার ব্যর্থ হয়েও বজায় রাখেন জেদ! ৪০,০০০ কোটির কোম্পানি দাঁড় করিয়ে নজির অঙ্কুশের
এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা অভিজ্ঞতা থেকে। প্রতিরক্ষা মহলের একাংশের দাবি, গত বছর পাকিস্তান সীমান্তে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় বিদ্যমান কিছু উপগ্রহ রাত ও মেঘলা আবহাওয়ায় কার্যকর তথ্য দিতে ব্যর্থ হয়। এর ফলে একাধিক সীমান্ত অঞ্চলে তথ্যের ঘাটতি দেখা দিয়েছিল। SBS-3 প্রকল্প এই জাতীয় প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা দূর করে ভারতের মহাকাশভিত্তিক নজরদারিকে আরও অপ্রতিরোধ্য করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই প্রকল্পে সরকারি ও বেসরকারি খাতের যৌথ অংশগ্রহণ একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো) ২১টি উপগ্রহ তৈরি ও উৎক্ষেপণের দায়িত্বে থাকবে। বাকি ৩১টি উপগ্রহ তৈরি করবে দেশের বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ সংস্থা। এটি ভারতের সামরিক মহাকাশ কার্যক্রমে এখন পর্যন্ত বেসরকারি খাতের সবচেয়ে বড় অংশগ্রহণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এই উপগ্রহগুলো বিভিন্ন উচ্চতা ও কক্ষপথে স্থাপন করা হবে, যা চিন ও পাকিস্তানের সীমান্ত থেকে শুরু করে সমগ্র ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে টানা নজরে রাখতে সক্ষম হবে।

আরও পড়ুন: এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে উত্তেজনা, বর্ধমান স্টেশনে স্থানীয়দের অবরোধ, বিপর্যস্ত যাতায়াত
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, SBS-3 কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে ভারতের তথ্য সংগ্রহ, লক্ষ্য শনাক্তকরণ এবং প্রাক-সতর্কীকরণ ব্যবস্থার সামর্থ্য কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী আগাম ও নির্ভুল তথ্যের ভিত্তিতে আরও কার্যকরভাবে সাড়া দিতে পারবে। সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি ভারত মহাসাগরে সামুদ্রিক চলাচল ও নিরাপত্তা হুমকির ওপর নিয়ন্ত্রণও বাড়বে। সার্বিকভাবে, এই প্রকল্প ভারতের কৌশলগত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

















