বাংলা হান্ট ডেস্ক: ইরানে যেন অশান্তির আগুন নিভেই চাইছে না। যেকোনও মুহূর্তে বাঁধতে পারে ভয়ঙ্কর যুদ্ধ। তাই যেমনভাবেই হোক সেখানে বসবাসকারী সমস্ত ভারতীয়দের(India) সত্ত্বর দেশ ছাড়ার বার্তা ভারতীয় দূতাবাসের। ফের একবার ছাত্র বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পশ্চিম এশিয়ার এই দেশ। দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-এর বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা। নতুন সেমিস্টার শুরু হতে না হতেই ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে শাসকবিরোধী স্লোগান এবং বিক্ষোভের ছবি প্রকাশ্যে এসেছে। পরিস্থিতি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদিও এখনও সরাসরি সামরিক হুঁশিয়ারি দেয়নি আমেরিকা, তবে দুই দেশের মধ্যে চাপানউতোর বাড়ছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
এই দেশে থাকা ভারতীয়দের সতর্ক করে নির্দেশিকা জারি ভারতের (India)
এই পরিস্থিতিতে তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস ফের সতর্কতা জারি করেছে। সেখানে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের দ্রুত ইরান ছাড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দূতাবাসের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, যে কোনও উপলব্ধ পরিবহণ ব্যবহার করে ভারতে ফিরে আসাই নিরাপদ। পাশাপাশি বিভিন্ন জরুরি নথি যেমন পাসপোর্ট, পরিচয়পত্র এগুলি সবসময় সঙ্গে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই দূতাবাসের পক্ষ থেকে জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য হেল্পলাইন নম্বরও চালু করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: সন্ত্রাসবাদে জিরো টলারেন্সের বার্তা কেন্দ্রের! নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে অ্যাকশনে নামছে ‘PRAHAAR’
দূতাবাস পক্ষ থেকে ভারতীয় নাগরিকদের যেকোনওরকম বিক্ষোভ বা জনসমাবেশ থেকে দূরে থাকতে এবং নিয়মিত দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইরানে থাকা ভারতীয়দের নিজেদের তথ্য দূতাবাসের ওয়েবসাইটে আপলোড করে রাখারও অনুরোধ করা হয়েছে। যদি ইন্টারনেট সমস্যাজনিত কারণে কেউ তা করতে না পারেন, তবে ভারতে থাকা পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে সেগুলিকে আপলোডের ব্যবস্থা করার কথাও বলা হয়েছে। পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকায় সতর্ক থাকার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে রাজধানী তেহরান। শরিফ ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি ক্যাম্পাসে প্রথমে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ শুরু হলেও পরে খামেনেইপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘর্ষের অভিযোগ ওঠে। একইভাবে শাহিদ বেহস্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং আমির কবির ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি-তেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন ক্যাম্পাসে সরকার ও ধর্মীয় শাসনের বিরুদ্ধে স্লোগান তুলতে দেখা গেছে পড়ুয়াদের, যা দ্রুত দেশজুড়ে একইসঙ্গে আলোচনার ও চিন্তার বিষয় হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন: রমজানে আফগানিস্তানে মসজিদ লক্ষ্য করে হামলা, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দায় সরব ভারত
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ডিসেম্বর মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন ধীরে ধীরে বৃহত্তর রাজনৈতিক বিক্ষোভে পরিণত হয়। প্রশাসনের কঠোর দমননীতির অভিযোগও সামনে এসেছে, যেখানে বহু মানুষের মৃত্যুর দাবি করা হয়েছে। এরপর কিছুটা সময় পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও নতুন সেমিস্টার শুরু হতেই ফের উত্তেজনা বেড়েছে। ইতিমধ্যেই ভারতের তরফ থেকে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে দিল্লি। বর্তমান অস্থিরতার মধ্যে ইরানে থাকা ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন নয়াদিল্লির প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে।












