সন্ত্রাসবাদে জিরো টলারেন্সের বার্তা কেন্দ্রের! নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে অ্যাকশনে নামছে ‘PRAHAAR’

Published on:

Published on:

PRAHAAR
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: এবার জাতীয় সন্ত্রাস দমন নীতি আরও জোরদার করতে আসছে প্রহার (PRAHAAR)। ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর রাজধানী দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লার কাছে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। সেই ঘটনার তদন্তে উঠে আসে, এই বিস্ফোরণ কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং ভারতের অভ্যন্তরে আরও বড় জঙ্গি হামলার একটি বিস্তৃত মডিউল তৈরি করা হয়েছিল। আর সেই ঘটনার পর থেকেই রাজধানীতে নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয় এবং বিগত কয়েক মাসে দেশবিরোধী সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে যুক্ত সন্দেহে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারও করেছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি।

সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে অ্যাকশনে নামছে ‘প্রহার’ (PRAHAAR):

এই প্রেক্ষাপটে সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপ আরও জোরদার করতে কেন্দ্রীয় সরকার নতুনভাবে ‘জাতীয় সন্ত্রাস দমন নীতি’ চালু করেছে। যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্রহার’। দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে যে, সন্ত্রাসদমনে বরাবরই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে ভারত। তবে সময়ের সঙ্গে সন্ত্রাসের ধরন ও কৌশল বদলাচ্ছে, ফলে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। সেই কারণেই আধুনিক ও সমন্বিত কৌশল নিয়ে এই নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: রমজানে আফগানিস্তানে মসজিদ লক্ষ্য করে হামলা, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দায় সরব ভারত

নতুন এই নীতির অন্যতম লক্ষ্য হল কেন্দ্র ও রাজ্য সংস্থাগুলির মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী করা। আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে যৌথভাবে সন্ত্রাস মোকাবিলা, উচ্চ প্রযুক্তির হুমকি প্রতিরোধ, ড্রোন ও ডিজিটাল সরঞ্জামের ব্যবহার এবং স্থানীয় পুলিশকে দ্রুত প্রতিক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত করা— এই সব বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিশেষ বাহিনীর সহায়তায় স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও দক্ষ করে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।

তদন্ত প্রক্রিয়া শক্তিশালী করতে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি এবং রাজ্য পুলিশের সমন্বয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মাল্টি এজেন্সি সেন্টার এবং জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স অন ইন্টেলিজেন্স-এর মাধ্যমে রিয়েল-টাইম তথ্য আদান-প্রদান নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। অনলাইন মাধ্যমে জঙ্গি নিয়োগ ও অর্থ জোগানের পথ বন্ধ করাও এই নীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

 'Prahaar' takes action to strengthen security against terrorism

আরও পড়ুন: বাদ গেল ৯৭ লক্ষেরও বেশি নাম! SIR-এর পর্ব মিটতেই এই রাজ্যে প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা

নীতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে সন্ত্রাসবাদী হুমকি যেমন রয়েছে, তেমনি সাইবার জগতে শত্রু দেশের হানার আশঙ্কাও ক্রমশ বাড়ছে। স্থল, সমুদ্র, আকাশ এবং ডিজিটাল পরিসর— সব ক্ষেত্রেই হামলার ঝুঁকি মোকাবিলায় নতুন এই নীতি কার্যকর হবে। জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিদ্যুৎ, রেল, বিমান, বন্দর, প্রতিরক্ষা, মহাকাশ ও পারমাণবিক শক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোকে সুরক্ষিত রাখাই ‘প্রহার’ নীতির মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছে সরকার।