চিনের বাড়বে চিন্তা! হিমালয়ের দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে ভারত-জাপানের যৌথ সামরিক মহড়া

Published on:

Published on:

India-Japan joint military exercise in the remote mountainous region of the Himalayas
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: উত্তরাখণ্ডের মনোরম পার্বত্য অঞ্চলে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল সপ্তম ভারত ও জাপানের (India-Japan) যৌথ সামরিক মহড়া ‘ধর্ম গার্ডিয়ান ২০২৬’। ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত এই মহড়ায় ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং জাপানের স্থল আত্মরক্ষা বাহিনীর সেনারা এই মহড়ায় অংশ নেন। এই মহড়ার আসল লক্ষ্যই ছিল দুই দেশের সেনাদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যৌথভাবে কাজ করা। সন্ত্রাসবাদ বিরোধী অভিযান, নগর যুদ্ধ কৌশল এবং কঠিন পাহাড়ি অঞ্চলে সামরিক অভিযান পরিচালনার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ এই সময়ের মধ্যে পরিচালিত হয়।

হিমালয়ের দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে ভারত-জাপানের (India-Japan) যৌথ সামরিক মহড়া:

সূত্রের খবর, এই যৌথ মহড়া শুধুমাত্র সামরিক অনুশীলনই ছিল না, বরং ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বার্তাও বহন করে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতার কারণে ভারত ও জাপানের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ইন্দো-প্রশান্ত অঞ্চলে চিনের সামরিক উপস্থিতি বাড়তে থাকায় বহু দেশই নিজেদের নিরাপত্তা কৌশল নতুন করে সাজাচ্ছে।

আরও পড়ুন:যুদ্ধের আবহে বিদ্যুৎ বিপর্যয় বাংলাদেশে! পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের নির্দেশ

মহড়ার শেষ পর্যায়ে ৪৮ ঘণ্টার একটি বিশেষ মহড়াও পরিচালিত হয়, যার নাম দেওয়া হয় ‘আশাহি শক্তি’। এই অনুশীলনে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযানের একটি বাস্তবসম্মত পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। সেনারা প্রথমে একটি ঘেরাও ও অনুসন্ধান অভিযান পরিচালনা করেন। এরপর হেলিবোর্ন অপারেশন, জিম্মি উদ্ধার অভিযান, ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি এবং শহরাঞ্চলে ঘরে ঘরে তল্লাশি চালানোর মতো একাধিক জটিল সামরিক কৌশল অনুশীলন করা হয়। এই ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দুই দেশের বাহিনী বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতিতে একসঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করে।

এই মহড়ার স্থান নির্বাচনও কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। উত্তরাখণ্ডের চৌবাটিয়ার পার্বত্য অঞ্চল কঠিন পাহাড়ি ও বনভূমি পরিবেশের প্রতিনিধিত্ব করে, যা উচ্চ-উচ্চতা এবং পাহাড়ি যুদ্ধে প্রশিক্ষণের জন্য উপযুক্ত। ভারত-চীন সীমান্তের বহু এলাকাতেও একই ধরনের ভৌগোলিক পরিস্থিতি রয়েছে। ফলে এই ধরনের পরিবেশে যৌথ মহড়া পরিচালনা করলে জটিল ভূখণ্ডে সামরিক অভিযান পরিচালনার দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

India-Japan joint military exercise in the remote mountainous region of the Himalayas

আরও পড়ুন: iPhone-এর থেকে দাম কম! সহজেই মিলবে Honda-র এই দুর্ধর্ষ বাইক, মাসে দিতে হবে নামমাত্র EMI

মহড়ার সমাপনী অনুষ্ঠানে ভারত ও জাপানের একাধিক ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মতে, ‘ধর্ম গার্ডিয়ান ২০২৬’ দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত অংশীদারিত্বের একটি স্পষ্ট প্রতিফলন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইন্দো-প্রশান্ত অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও ভারসাম্য বজায় রাখতে ভারত ও জাপান ভবিষ্যতেও এ ধরনের যৌথ সামরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করবে। এই মহড়া সেই বৃহত্তর নিরাপত্তা সহযোগিতারই একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।