বাংলাহান্ট ডেস্ক: বিশ্ব রাজনীতির ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে সামরিক শক্তি বৃদ্ধির দৌড়ে এবার উল্লেখযোগ্য জায়গা করে নিল ভারত (India)। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রকাশিত ২০২৫ সালের সামরিক ব্যয়ের তালিকা অনুযায়ী, আমেরিকা, চিন ও রাশিয়ার মতো শক্তিধর দেশগুলির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে ভারত। প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বৃদ্ধি করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে নয়াদিল্লি।
সামরিক ব্যয়ের নিরিখে বিশ্বে পঞ্চম স্থানে ভারত (India):
রিপোর্টে বলা হয়েছে, সামরিক ব্যয়ের নিরিখে এখনও শীর্ষস্থান দখল করে রয়েছে আমেরিকা, যার ব্যয় ৯৫৪ বিলিয়ন ডলার। যদিও আগের বছরের তুলনায় এই ব্যয় ৭.৫ শতাংশ কমেছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা চিন ৩৩৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে ৭.৪ শতাংশ বৃদ্ধি দেখিয়েছে। তৃতীয় স্থানে থাকা রাশিয়া ১৯০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে সামরিক খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে ৫.৯ শতাংশ। এই তিন দেশের সম্মিলিত ব্যয় বিশ্ব সামরিক ব্যয়ের ৫১ শতাংশ, যা আন্তর্জাতিক শক্তির ভারসাম্যে বড় প্রভাব ফেলছে।
আরও পড়ুন: প্রাক নির্বাচনী সংঘর্ষে উত্তপ্ত আরামবাগ! জোড়া রিপোর্ট কমিশনে, কী জানালেন CEO মনোজ আগরওয়াল?
চমকপ্রদ ভাবে চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে জার্মানি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস বহনকারী এই দেশটি ২০২৫ সালে সামরিক খাতে ব্যয় করেছে ১১৪ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২৪ শতাংশ বেশি। এর ঠিক পরেই রয়েছে ভারত, যার প্রতিরক্ষা বাজেট ৮.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে পৌঁছেছে ৯২.১ বিলিয়ন ডলারে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বৃদ্ধি দেশের কৌশলগত শক্তি ও প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির প্রতিফলন।
অন্যদিকে, তালিকায় অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে পাকিস্তান। ৪০ টি দেশের তালিকায় পাকিস্তানের স্থান ৩১ নম্বরে। ২০২৫ সালে দেশটি ১১.৯ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১১ শতাংশ বেশি হলেও ভারতের সঙ্গে ব্যবধান অনেকটাই। একইসঙ্গে ইউরোপীয় দেশগুলির সামরিক ব্যয় ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৮৬৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা ন্যাটো দেশগুলির প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।

আরও পড়ুন:কাঁচা আমের টক আর কাসুন্দির স্পেশাল ফ্লেভার! চিংড়ি দিয়ে বানান জম্পেশ পদ, রেসিপি রইল
রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অস্ত্র আমদানির ক্ষেত্রে ভারত (India) এখনও বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ। যদিও আগের তুলনায় আমদানি ৪ শতাংশ কমেছে, তবুও বিশ্বের মোট অস্ত্র আমদানির ৮.২ শতাংশই ভারতে আসে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চিন ও পাকিস্তানের সঙ্গে চলমান সীমান্ত উত্তেজনাই ভারতের এই প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ। ফলে সামরিক শক্তি বাড়ানোর এই প্রবণতা আগামী দিনেও অব্যাহত থাকতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।












