বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতীয় বিমানবাহিনীর জন্য প্রায় ৩.২৫ লক্ষ কোটি টাকা ব্যয়ে আরও ১১৪ টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে প্রতিরক্ষা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। যা ইতিমধ্যেই পাকিস্তানের (Pakistan) ঘুম উড়িয়েছে। এই বিশাল চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ভারতের বিমান আক্রমণ ও প্রতিরক্ষা ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। রাফালের আধুনিক সেন্সর, দীর্ঘ পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও স্টিলথ ক্যাপাবিলিটি দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের বায়ু শ্রেষ্ঠত্বকে আরও শক্তিশালী করবে, যা প্রতিবেশী পাকিস্তানের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
১১৪ টি রাফাল কিনছে ভারত, ঘুম উড়ল পাকিস্তানের (Pakistan):
এই ক্রমবর্ধমান চাপ মোকাবিলায় পাকিস্তান চিনের তৈরি যুদ্ধবিমান আমদানির গতি বাড়াচ্ছে। পাকিস্তান ইতিমধ্যে জে-১০সিই যুদ্ধবিমান বহরে অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং প্রতিরক্ষা সূত্র অনুযায়ী আরও ৬০ থেকে ৭০টি জে-১০সিই কেনার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। রাফালের বিরুদ্ধে কার্যকর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবেই পাকিস্তান বিমানবাহিনী এই চতুর্থ প্রজন্মের বিমানগুলির উপর নির্ভরশীল হতে চলেছে।
আরও পড়ুন: ভোটের আগেই উত্তপ্ত পরিস্থিতি, SIR নিয়ে রাজ্য সরকারকে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের
শুধু তাই নয়, পাকিস্তান পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান অর্জনের দিকেও তাকিয়ে আছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তারা চিনের জে-৩৫ স্টিলথ ফাইটার জেট আগ্রহের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে এবং ভবিষ্যতে প্রায় ৪০টি জে-৩৫ বহর গঠনের সম্ভাব্যতা যাচাই করছে। যদিও এই বিমানগুলি এখনও উন্নয়ন পর্যায়ে রয়েছে, এগুলিকে পাকিস্তানের দীর্ঘমেয়াদী বিমান শক্তি বৃদ্ধির রূপান্তরকারী হাতিয়ার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এছাড়া, পাকিস্তান স্থানীয়ভাবে যুদ্ধবিমান উন্নয়ন প্রক্রিয়াতেও বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। ‘প্রকল্প আজম’-এর মাধ্যমে তারা জেএফ-১৭ থান্ডারের একটি অত্যাধুনিক সংস্করণ তৈরি করতে চায়, যাতে উন্নত স্টেলথ প্রযুক্তি, আধুনিক অ্যাভিওনিক্স এবং শক্তিশালী প্রপালশন সিস্টেম যুক্ত হবে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য চীনের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পকে শক্তিশালী করা।

আরও পড়ুন: এক ক্লিকেই হবে মুশকিল আসান! সাধারণ মানুষের হয়রানি কমাতে বিরাট উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার
তবে চিনের প্রতি এই ঝুঁকির পরও পাকিস্তান তার মার্কিন-নির্মিত এফ-১৬ বহরকে এখনও একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে গণ্য করে। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৬৮৬ মিলিয়ন ডলারের একটি রক্ষণাবেক্ষণ প্যাকেজ অনুমোদন করেছে, যা ২০৪০ সাল পর্যন্ত এই বহরের কার্যক্ষমতা বজায় রাখবে। পাশাপাশি, পাকিস্তান তুরস্কের পঞ্চম প্রজন্মের কান স্টিলথ ফাইটার প্রোগ্রামেও অংশগ্রহণে আগ্রহ দেখিয়েছে। সার্বিকভাবে, ভারতের বিমান শক্তি বৃদ্ধির প্রত্যুত্তরে পাকিস্তান একটি বহুমুখী ও বহুস্তরীয় কৌশল অবলম্বন করছে, যার কেন্দ্রে রয়েছে চিন, এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের সাথে বিদ্যমান সহযোগিতা বজায় রাখা।












