পড়শি দেশে পালাবদলে বন্ধুত্বের বার্তা ভারতের? বাংলাদেশে গম রফতানিতে উঠল নিষেধাজ্ঞা

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: বাংলাদেশে শেষ হতে চলেছে অধ্যাপক মহম্মদ ইউনুস-এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যায়। সেই আবহেই ফের ভারত-বাংলাদেশ (India-Bangladesh) সম্পর্কের উন্নতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন। এই রাজনৈতিক পালাবদলের মধ্যেই প্রতিবেশী ভারতের তরফে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা এসেছে—প্রায় চার বছর পর বাংলাদেশে গম রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে নয়াদিল্লি।

ভারত-বাংলাদেশ (India-Bangladesh) সর্ম্পকের নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত!

ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রক ১৪ ফেব্রুয়ারি এক নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছে, বাংলাদেশে গম রপ্তানিতে আর কোনও বাধা নেই। ২০২২ সালের ১৩ মে অভ্যন্তরীণ বাজারে গমের দাম বৃদ্ধি ও খাদ্যনিরাপত্তার যুক্তিতে এই রপ্তানি বন্ধ করা হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কে প্রভাব পড়েছিল। বর্তমান প্রেক্ষাপটে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারকে কূটনৈতিক মহল ইতিবাচক সংকেত হিসেবেই দেখছে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের আবহে বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ হিসেবে এ পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশে তারেকের মন্ত্রিসভায় হিন্দু মুখ? গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে

তবে বাণিজ্যিক বাস্তবতা ভিন্ন কথা বলছে। হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক দিনেশ পোদ্দারের মতে, বর্তমানে ইউক্রেন ও রাশিয়া থেকে আমদানি করা গমের দাম ভারতের তুলনায় কিছুটা কম। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে ভারত থেকে বড় আকারে গম আমদানির সম্ভাবনা কম। যদিও নতুন মৌসুমে ভারতে গমের সরবরাহ বাড়লে দাম কমতে পারে, তখন বাংলাদেশের বাজারে তুলনামূলক কম দামে ভারতীয় গম সরবরাহের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে তিনি মনে করছেন।

নির্বাচনী ফলাফলে দেখা গেছে, ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়ী হয়েছে। জোটসঙ্গীদের আরও তিনটি আসন নিয়ে বিএনপি জোটের মোট আসনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১২। এর ফলে তারা একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠনের পথ সুগম করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল বাংলাদেশের ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন এনেছে এবং আঞ্চলিক কূটনীতিতেও তার প্রভাব পড়বে।

Indications of a new equation in India-Bangladesh relations!

আরও পড়ুন:T20 বিশ্বকাপ ২০২৬-এ ফের মুখোমুখি হবে ভারত-পাকিস্তান? কী বলছে সমীকরণ?

তারেক রহমানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং বিদেশ সচিব বিক্রম মিসরি। উচ্চপর্যায়ের এই উপস্থিতিকে দুই দেশের সম্পর্কোন্নয়নের বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্কও নতুন মাত্রা পেতে পারে। দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার পর দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কে ধীরে ধীরে স্বাভাবিকতা ফিরবে বলেই আশা করা হচ্ছে।