বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতের পূর্ব সীমান্তে বাংলাদেশ-চিনের (Bangladesh-China) বাড়বাড়ন্ত চিন্তা বাড়াচ্ছে নয়াদিল্লির। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও চিনের মধ্যে একাধিক পরিকাঠামো এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা সংক্রান্ত চুক্তির খবর সামনে আসার পর বিষয়টির উপর বিশেষ নজর রাখছে নয়াদিল্লি। বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, বাংলাদেশের মাটিতে চিনের সহায়তায় একটি ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে একাধিক প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়েছে। যদিও এই উদ্যোগগুলিকে বাংলাদেশ ও চিন উন্নয়নমূলক প্রকল্প হিসেবে তুলে ধরছে, তবু ভারতের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, এই পরিবর্তনগুলি ভবিষ্যতে পূর্ব সীমান্তের কৌশলগত সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে। সেই কারণেই গোটা পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে ভারত।
ভারতের পূর্ব সীমান্তে বাংলাদেশ-চিনের (Bangladesh-China) অতি তৎপরতা ভাবাচ্ছে নয়াদিল্লিকে:
ভারতীয় সেনাবাহিনী ইতিমধ্যেই সীমান্ত নিরাপত্তায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পথে এগিয়েছে। অপারেশন সিঁদুরের অভিজ্ঞতার পর ড্রোন প্রযুক্তির গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে। সেই কারণে সেনাবাহিনী নতুন ড্রোন ইউনিট বা বিশেষ ড্রোন ব্যাটালিয়ন গঠনের পরিকল্পনা নিয়েছে। নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং সীমান্তে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে এই ড্রোনগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিশেষ করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দুর্গম এলাকা এবং দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্তে নজরদারির ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি কার্যকর হবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে শুধু প্রচলিত সামরিক শক্তি নয়, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থাও জাতীয় নিরাপত্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে (Bangladesh-China)।
আরও পড়ুন: হাজার হাজার হকারের জন্য স্বস্তির খবর! উচ্ছেদ নিয়ে বিরাট সিদ্ধান্ত সরকারের
সূত্রের খবর, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বেজিং সফরে চিনের সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং সম্ভাব্য অর্থনৈতিক করিডর গড়ে তোলার পরিকল্পনা। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চিনের ইউনান প্রদেশের কুনমিং থেকে মায়ানমার হয়ে বাংলাদেশের মোংলা বন্দর পর্যন্ত একটি স্থলপথভিত্তিক অর্থনৈতিক করিডর তৈরির ভাবনা রয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চিনের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত উপস্থিতি আরও শক্তিশালী হতে পারে বলে আন্তর্জাতিক মহলের একাংশের মত। ভারতের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের করিডর ভবিষ্যতে উত্তর-পূর্ব ভারতের কৌশলগত পরিবেশে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। যদিও এখনও এই প্রকল্পগুলির অনেকটাই পরিকল্পনার স্তরে রয়েছে এবং চূড়ান্ত বাস্তবায়নের বিষয়ে কোনও সরকারি ঘোষণা হয়নি।
এছাড়াও বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশের লালমনিরহাট বিমানঘাঁটির আধুনিকীকরণ এবং তিস্তা নদী সংক্রান্ত কিছু উন্নয়নমূলক প্রকল্পেও চিন আগ্রহ দেখিয়েছে। বাংলাদেশ সরকার বরাবরই বলে এসেছে, তারা বিভিন্ন দেশের সঙ্গে উন্নয়নমূলক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি ও পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে চায়। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক কৌশলগত বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, চিনের বিদেশে বিনিয়োগ ও অবকাঠামো প্রকল্প অনেক সময় বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক কৌশলের সঙ্গেও যুক্ত থাকে। তবে এই বিষয়ে এখনও কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ সামনে আসেনি যে, বাংলাদেশের প্রকল্পগুলি ভারতের বিরুদ্ধে কোনও সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে। ফলে বিষয়টি নিয়ে পর্যবেক্ষণ এবং কূটনৈতিক মূল্যায়নই বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতও পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু সামরিক নয়, কূটনৈতিক এবং কৌশলগত স্তরেও সক্রিয় রয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত করা, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবকাঠামো উন্নয়ন, সীমান্ত নজরদারি জোরদার করা এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রতিটি দেশের সঙ্গে চিনের (Bangladesh-China) সম্পর্ক এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অগ্রগতি ভারত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে, যা স্বাভাবিক কৌশলগত প্রক্রিয়ারই অংশ। আগামী দিনে বাংলাদেশ-চিন সহযোগিতার প্রকল্পগুলি কীভাবে এগোয় এবং তার আঞ্চলিক প্রভাব কী হয়, তার উপরই অনেকাংশে নির্ভর করবে পূর্ব সীমান্তের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা পরিস্থিতি। বর্তমানে ভারত সতর্ক থাকলেও, বিষয়টি নিয়ে সরকারিভাবে কোনও উদ্বেগ বা প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।













