বাংলাহান্ট ডেস্ক: আজ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথমদফার ভোটগ্রহণ। সেইমতো নির্দিষ্ট সময়েই সকাল থেকে সব বুথে শুরু হয়েছে ভোটদান পর্ব। এরই মধ্যে বড়ঞা ও নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে ইভিএম বিভ্রাট (EVM Malfunction) ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বড়ঞা ব্লকের গোদাপাড়া এলাকার ১৮৬ নং বুথে স্থানীয়দের একাংশ অভিযোগ তুলেছেন EVM-এ নির্দিষ্ট প্রতীকে বোতাম টিপলেও ভোট অন্য দলের পক্ষে গিয়ে নথিভুক্ত হচ্ছে। ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই গোটা এলাকা জুড়ে শোরগোল পড়ে যায়। প্রশ্ন উঠতে শুরু করে ভোটের স্বচ্ছতা নিয়েও।
বড়ঞা-নন্দীগ্রামে EVM বিভ্রাট (EVM Malfunction) ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য:
স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকে ভোট দেওয়ার চেষ্টা করলেও সেই ভোট চলে যাচ্ছে বিজেপির ঝুলিতে। এই অভিযোগে রীতিমতো ক্ষুব্ধ হয়ে বহু মানুষ বুথের বাইরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তাঁদের মতে, এটি হয়তো EVM-এর গুরুতর কোনও প্রযুক্তিগত ত্রুটি, অথবা বিরোধী দলের ইচ্ছাকৃত কোনও কারচুপি। তাঁদের দাবি যেটাই হোক না কেন এর দ্রুত এবং স্বচ্ছ তদন্তের প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: প্রথম দফার ভোটের দিনই বড় ক্লু! BJP জিতলে কে হবেন মুখ্যমন্ত্রী? জানালেন অমিত শাহ
জানা গিয়েছে, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পৌঁছয় পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর দল। নিরাপত্তার স্বার্থে ঘিরে ফেলা হয় গোটা এলাকা। এই অশান্তির জেরে কিছুক্ষণ ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াও ব্যাহত হয় বলে জানা গিয়েছে। যদিও পরে পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দেওয়া গেলে ফের ভোটদান পর্ব স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় চলতে শুরু করে বলে জানা যাচ্ছে।
অন্যদিকে, প্রায় একই ধরনের অভিযোগ উঠে আসছে নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকেও। সূত্রের খবর, নন্দীগ্রামের ১৫১ নং বুথেও এই একই রকমের ঘটনা ঘটেছে। বিরুলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় অভিযোগ করা হয়েছে, ভোটাররা যে দলকেই ভোট দিতে চাইছেন না কেন, তা শেষ পর্যন্ত বিজেপির পক্ষে চলে যাচ্ছে। এই অভিযোগ ঘিরে সেখানেও একটি অশান্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, এবং বেশ খানিকক্ষণের জন্য ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াও বন্ধ রাখতে হয়। তবে, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হয় বলে জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুন:আজ ঝড়-বৃষ্টি দক্ষিণবঙ্গে, কমবে গরম? ভালো খবর দিল আবহাওয়া দপ্তর
যদিও ইভিএম (EVM Malfunction) নিয়ে এই গুরুতর অভিযোগগুলির প্রেক্ষিতে নির্বেচন কমিশনের তরফে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি বলে জানা যাচ্ছে। তবে, ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা ও প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে দ্রুত তদন্ত ও স্পষ্ট ব্যাখ্যার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।












