১৩ জন বিশ্বনেতার মৃত্যু পরোয়ানা জারি ইরানের! ট্রাম্প-মেলোনি সহ তালিকায় রয়েছেন আর কারা?

Published on:

Published on:

Iran issues death warrants for 13 world leaders, including Trump!
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ইরানের (Iran) প্রাক্তন সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুকে ঘিরে পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর থেকেই প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছিলেন তাঁর পুত্র মোজতবা খামেনেই (Mojtaba Khamenei)। সেই আবহেই তেহরান পুরসভার সঙ্গে যুক্ত একটি ইরানি সংবাদপত্রে প্রকাশিত একটি বিতর্কিত তালিকা আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। ওই প্রকাশনায় দাবি করা হয়েছে, খামেনেইয়ের মৃত্যুর জন্য দায়ী বলে মনে করা ১৩ জন আন্তর্জাতিক নেতার ছবি ও নাম প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এই তালিকাটি কোনও আন্তর্জাতিক আদালতের আইনি নথি বা আনুষ্ঠানিক বিচারিক পরোয়ানা নয়; এটি ইরানের পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রকাশের পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

ট্রাম্প সহ ১৩ জন বিশ্বনেতার মৃত্যু পরোয়ানা জারি ইরানের (Iran)!

প্রকাশিত তালিকায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজরায়েল কাটজ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সারের নাম রয়েছে। পাশাপাশি ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মের্ৎস-সহ মোট ১৩ জন নেতাকে এই তালিকায় স্থান দেওয়া হয়েছে। প্রকাশিত ছবিগুলিতে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে বন্দুকের নিশানায় দেখানো হয়েছে, অন্য কয়েকজনকে বন্দির পোশাকে উপস্থাপন করা হয়েছে। এই ধরনের চিত্রায়ণ আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এবং এর তাৎপর্য নিয়ে বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন:আর নয় একাধিপত্য! চিনকে ঝটকা দিয়ে চুম্বক ছাড়াই EV-র মোটর তৈরি করল ভারতের এই সংস্থা

ইরানের দাবি অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘটিত সামরিক অভিযানে আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হন। তাঁর শেষকৃত্যের পর মোজতবা খামেনেই এক লিখিত বার্তায় বলেন, দেশের মানুষের একমাত্র দাবি প্রতিশোধ এবং তাঁর পিতার মৃত্যুর বদলা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, যুদ্ধে নিহত সকল নেতার রক্তের প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়, এই লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চলবে এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সমর্থকদেরও সেই অভিযানের অংশ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এই বক্তব্য সামনে আসার পর থেকেই পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

তেহরানের অভিযোগ, ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে শুধু আমেরিকা ও ইজরায়েলই নয়, ইউরোপের কয়েকটি দেশও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেছে। ইরানের দাবি, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির মতো দেশগুলি শুধু হামলার বিরোধিতা করেনি তা-ই নয়, বরং মার্কিন সামরিক বিমানের জন্য নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে অভিযানে পরোক্ষ সহায়তা করেছে। যদিও সংশ্লিষ্ট দেশগুলির পক্ষ থেকে এই অভিযোগ স্বীকার করা হয়নি। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের মতে, এই ধরনের অভিযোগ ভবিষ্যতে পশ্চিম এশিয়া ও ইউরোপের সম্পর্কের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

Iran issues death warrants for 13 world leaders, including Trump!
ইরানের জাতীয় পতাকা

আরও পড়ুন: আন্তর্জাতিক ফিজিক্স অলিম্পিয়াডে প্রথম স্থান ভারতের! ৫ জন পড়ুয়া জিতলেন সোনার মেডেল

এই ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, উত্তেজনাপূর্ণ ভাষা ও প্রতিশোধের বার্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। একইসঙ্গে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের প্রকাশনা মূলত রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করার একটি কৌশল হলেও, এর প্রতিক্রিয়া আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক সমীকরণে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির দিকে এখন নজর রাখছে গোটা বিশ্ব (Iran)।