মধ্যস্থতা করতে গিয়ে একী বিড়ম্বনা! আমেরিকা-ইরান বৈঠকে যা হল… মুখ চুন পাকিস্তানের

Published on:

Published on:

Iran-US talks collapse again; Pakistan suffers another embarrassment!
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘদিনের অস্থিরতার অবসান ঘটিয়ে শান্তির পথ খুঁজতে সুইজারল্যান্ডে মুখোমুখি হয়েছিল আমেরিকা ও ইরানের (Iran-US Talks) উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। এই বৈঠককে ঘিরে বিশেষ আশাবাদী ছিল পাকিস্তান। কাতারের সঙ্গে যৌথভাবে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় থেকে ইসলামাবাদ মনে করেছিল, আন্তর্জাতিক কূটনীতির মঞ্চে নিজেদের গুরুত্ব নতুন করে প্রতিষ্ঠা করার এটাই বড় সুযোগ। পাকিস্তানের শাসক মহল এবং সরকারি ঘনিষ্ঠ মহলে এই বৈঠক নিয়ে যথেষ্ট প্রচারও করা হয়েছিল। কিন্তু বৈঠক শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি এমন দিকে মোড় নেয়, যা পাকিস্তানের প্রত্যাশার সম্পূর্ণ বিপরীত বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

ফের ভেস্তে গেল ইরান-আমেরিকা (Iran-US Talks) শান্তিবৈঠক, আবারও মুখ পুড়ল পাকিস্তানের!

সুইজারল্যান্ডের বারগেনস্টকে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকের প্রথম পর্বে পাকিস্তান ও কাতারের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আমেরিকা এবং ইরানের (Iran-US Talks) মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। প্রায় ৮০ মিনিট ধরে চলা এই বৈঠকের পর দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে সরাসরি দ্বিপাক্ষিক আলোচনা শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঠিক সেই সময়েই নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইরানকে কড়া বার্তা দেন এবং হরমুজ প্রণালী নিয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। শুধু তাই নয়, আলোচনায় অংশ নিতে যাওয়া ইরানি প্রতিনিধিদের উদ্দেশেও তিনি সতর্কতামূলক মন্তব্য করেন। আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে যেখানে সংযম ও আলোচনার পরিবেশ বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়, সেখানে ট্রাম্পের এই মন্তব্য পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: হরমুজ ঘিরে অনিশ্চয়তা! তেল আমদানি সচল রাখতে বড় গেমপ্ল্যান ভারতের

এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ইরানি সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয় যে তেহরানের প্রতিনিধিরা বৈঠকস্থল ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছেন। যদিও পরবর্তী সময়ে বৈঠক পুরোপুরি ভেঙে গিয়েছিল কি না, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি, তবুও প্রথম দিনেই আলোচনার গতি থমকে যাওয়াকে বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। প্রকাশ্যে আসা একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বৈঠককক্ষ ছাড়ার আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে কথা বলছেন। এরপর ইরানি প্রতিনিধিরা হল ত্যাগ করেন। ঘটনাটি লক্ষ্য করেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সও। পরে তাঁকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে আলাপ করতে দেখা যায়। এই দৃশ্য আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে জল্পনা উস্কে দিয়েছে।

সবচেয়ে বেশি অস্বস্তিতে পড়েছে পাকিস্তানই। কারণ দীর্ঘদিন ধরেই ইসলামাবাদ নিজেকে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক শক্তি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করে আসছে। আমেরিকা ও ইরানের মতো দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের মধ্যে সংলাপের সেতুবন্ধন গড়ে তোলার সুযোগকে তারা নিজেদের বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখাতে চেয়েছিল। কিন্তু বৈঠকের শুরুতেই যে আস্থা ও বিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি হওয়ার কথা ছিল, তা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। ফলে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অনেকের মতে, আলোচনার পরিবেশ যদি শুরুতেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, তবে মধ্যস্থতাকারীদের ভূমিকা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহ তৈরি হয়।

Iran-US talks collapse again; Pakistan suffers another embarrassment!

আরও পড়ুন: জ্বালানি সঙ্কটের আবহেই কাতারের LNG প্ল্যান্টে ভয়াবহ বিস্ফোরণ! গুরুতর যখন কমপক্ষে ৫৪, নিখোঁজ ১৮

কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, এই ঘটনা পাকিস্তানের ভাবমূর্তির জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। কারণ বৈঠকের আগে ইসলামাবাদে প্রচার করা হয়েছিল যে পাকিস্তান আবারও আন্তর্জাতিক কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। কিন্তু বাস্তবে প্রথম পর্বেই অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় সেই প্রচারের জোর অনেকটাই কমে গিয়েছে। আন্তর্জাতিক স্তরে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর যে চেষ্টা পাকিস্তান করছিল, তা এই ঘটনার ফলে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক তাই এখন কেবল আমেরিকা-ইরান সম্পর্কের জন্য নয়, পাকিস্তানের কূটনৈতিক অবস্থানের জন্যও একটি বড় পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে (Iran-US Talks)।