বাংলাহান্ট ডেস্ক: ইতালির (Italy) স্কুলগুলিতে বোরখা ও নিকাব নিষিদ্ধ করার পথে এগোচ্ছে জর্জিয়া মেলোনির (Giorgia Meloni) সরকার। একই সঙ্গে বিদেশি পড়ুয়াদের একটি ক্লাসে সর্বোচ্চ সংখ্যা বেঁধে দেওয়ার প্রস্তাবও আনতে চলেছে রোম। শুধু পড়ুয়া নয়, ইতালির স্কুল ব্যবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নিতে গুরুতর সমস্যায় থাকা বিদেশি পড়ুয়াদের অভিভাবকদের জন্যও ইতালীয় ভাষা শেখা বাধ্যতামূলক করার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মেলোনি। রবিবার রোমে তাঁর দল ব্রাদার্স অব ইতালির যুব সংগঠনের এক অনুষ্ঠানে এই পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। মেলোনির ঘোষণা অনুযায়ী, শীঘ্রই প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভার সামনে আনা হতে পারে।
স্কুলে বোরখা-নিকাব নিষিদ্ধ সহ বিদেশি পড়ুয়াদের জন্যও নতুন নিয়ম আনছে ইতালি (Italy):
বিদেশি পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে ঠিক কত জনকে একটি ক্লাসে রাখা যাবে, সেই সংখ্যা অবশ্য এখনও নির্দিষ্ট করেননি মেলোনি। তাঁর বক্তব্য, কোনও একটি শ্রেণিতে হাতে গোনা কয়েকজন পড়ুয়ার ইতালীয় ভাষায় সমস্যা থাকলে সহপাঠী ও শিক্ষকদের সাহায্যে তারা দ্রুত ভাষা শিখে স্কুলের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে। কিন্তু ভাষা না জানা পড়ুয়ার সংখ্যা যদি একটি ক্লাসে অনেক বেড়ে যায়, তাহলে তা আর কার্যকর সংহতি বা একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়া থাকে না বলেই তাঁর মত। ইতালির স্কুলগুলিতে বর্তমানে প্রায় ১১.৬ শতাংশ পড়ুয়া ইতালীয় নাগরিক নন বলে Fondazione ISMU-র তথ্য উল্লেখ করে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা (Italy)।
আরও পড়ুন: ১৫ দিন পঞ্চায়েতে প্রধান না এলেই প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্ত, বার্তা দিলীপ ঘোষের
বোরখা ও নিকাব নিয়ে মেলোনির প্রস্তাবটিও বেশ স্পষ্ট। তাঁর বক্তব্য, স্কুলে পড়ুয়াদের মুখ ঢাকা অবস্থায় থাকা উচিত নয়। তবে তিনি হিজাব নিষিদ্ধ করার কথা বলেননি। হিজাব সাধারণত মাথা ও ঘাড় ঢাকে, কিন্তু মুখ খোলা থাকে। অন্যদিকে নিকাব মুখ ঢেকে শুধু চোখের অংশ খোলা রাখে এবং বোরখায় মুখ ও শরীর প্রায় সম্পূর্ণ আবৃত থাকে। ফলে প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞাটি মূলত মুখ ঢেকে রাখা পোশাককে ঘিরেই। মেলোনি বলেন, ইতালিতে নিজের ভবিষ্যৎ গড়তে আসা প্রত্যেকের দেশের ভাষা শেখা, সংস্কৃতি বোঝা এবং নিয়মকানুন মেনে চলা প্রয়োজন।
তবে এই ঘোষণার পরেই নিয়মগুলি কার্যকর হয়ে যাচ্ছে না। প্রস্তাবটি আগে সরকার অনুমোদন করবে এবং এরপর আইনে পরিণত করতে সংসদীয় অনুমোদন প্রয়োজন হবে। রিপোর্ট অনুযায়ী, সরকারের অনুমোদনের পর ৬০ দিনের মধ্যে সংসদের অনুমোদন না মিললে সংশ্লিষ্ট সরকারি পদক্ষেপ আইনে পরিণত হবে না। ফলে বোরখা-নিকাব নিষেধাজ্ঞা বা বিদেশি পড়ুয়াদের সংখ্যার সীমা কবে থেকে কার্যকর হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এমনিতেই ইতালির আইনে একটি শ্রেণি বা স্কুলে বিদেশি পড়ুয়াদের সংখ্যা নিয়ে সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তাই নতুন প্রস্তাবে সেই ব্যবস্থায় কী পরিবর্তন আনা হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন: রেশন কার্ডের এই দুই ধরন নিয়ে ধন্দ? RKSKY-1 না RKSKY-2, সুবিধার পার্থক্য জানুন
আগামী বছরের সাধারণ নির্বাচনের আগে মেলোনি সরকারের এই ঘোষণাকে ঘিরে ইতালির (Italy) রাজনীতিতেও আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিবাসন ও বিদেশি নাগরিকদের সংহত করার প্রশ্নটি ইতালির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মেলোনি নিজেও অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও সাংস্কৃতিক সংহতির উপর জোর দিয়ে আসছেন। নতুন প্রস্তাবে সেই নীতিরই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন। তবে প্রস্তাবগুলি শেষ পর্যন্ত কীভাবে আইনে রূপ নেয়, বিদেশি পড়ুয়াদের সীমা কতটা নির্ধারণ করা হয় এবং বোরখা-নিকাব নিয়ে ঠিক কী বিধি চালু হয়, এখন সেদিকেই নজর।














