বাংলা হান্ট ডেস্ক: এবার একটি বড় আপডেট সামনে এসেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের ডিজিটাল পরিষেবা ইউনিট, জিও প্ল্যাটফর্মস লিমিটেড, ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং তথা IPO (Jio Platforms IPO)-র জন্য মার্কেট রেগুলেটর সেবি (SEBI)-র অনুমোদন পেয়েছে। সংস্থাটি এই ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং (IPO)-র মাধ্যমে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩৭,৭০০ কোটি টাকা) সংগ্রহের আশা করছে। যা এটিকে দেশের বৃহত্তম IPO-তে পরিণত করতে পারে। জিও প্ল্যাটফর্মস তার প্রস্তাবিত পাবলিক অফারিংয়ের জন্য জুন মাসে সেবির কাছে খসড়া নথি জমা দিয়েছিল। সেবির তথ্য অনুযায়ী, জিও প্ল্যাটফর্মস ২৮ অগাস্ট সেবির চূড়ান্ত মতামত পেয়েছে। IPO প্রক্রিয়ায় সেবির মতামত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এরপরে, সংস্থাটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিয়মকানুন মেনে ইস্যুটি চালু করার জন্য পরবর্তী প্রস্তুতি নিতে পারবে।
আসতে চলেছে ভারতের সবথেকে বড় IPO (Jio Platforms IPO)!
২৭ কোটি নতুন শেয়ার ইস্যু করা হবে: জানিয়ে রাখি যে, জিও প্ল্যাটফর্মসের বিস্তারিত প্রসপেক্টাস অনুযায়ী, সংস্থাটি ২৭ কোটি পর্যন্ত নতুন ইক্যুইটি শেয়ার ইস্যু করবে। এই ইস্যুর পর, এটি সংস্থার মোট ইক্যুইটি শেয়ারের প্রায় ২.৯ শতাংশ হবে। সূত্র জানিয়েছে, সংস্থাটি প্রায় ১৩৭ বিলিয়ন ডলার ভ্যালুয়েশনে এই IPO-র মাধ্যমে প্রায় ৩৭,৭০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করতে পারে। যা এটিকে দেশের ইতিহাসে বৃহত্তম IPO-তে পরিণত করবে। ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ তথা NSE-র প্রস্তাবিত IPO-র মূল্য প্রায় ৩০,০০০ কোটি টাকা হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, IPO থেকে প্রাপ্ত অর্থ প্রধানত সাধারণ প্রাতিষ্ঠানিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের পাশাপাশি জিও প্ল্যাটফর্মসের একটি প্রধান সহযোগী প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স জিও ইনফোকম লিমিটেড (RJIL)-এর কিছু বকেয়া ঋণ পরিশোধের জন্য ব্যবহার করার প্রস্তাব করা হয়েছে। জিও প্ল্যাটফর্মসের বিশাল আকার এবং উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগকারী গোষ্ঠীর পরিপ্রেক্ষিতে, প্রস্তাবিত IPO-টি বিনিয়োগকারী ও বাজারের পক্ষ থেকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
আরও পড়ুন: মিলবে ১০০ শতাংশ স্বদেশি নেটওয়ার্ক! দেশজুড়ে বসছে BSNL-এর নতুন ১৮,৬৮৫ টি টাওয়ার
২০২০ সালে বিপুল অর্থ সংগ্রহ: জানিয়ে রাখি যে, জিও প্ল্যাটফর্মস এর আগেও বিশ্বের কয়েকটি বৃহত্তম প্রযুক্তি এবং প্রাইভেট ইক্যুইটি বিনিয়োগকারীকে আকৃষ্ট করেছে। ২০২০ সালে, সংস্থাটি ফেসবুকের প্রোমোটার মেটার কাছ থেকে ৯.৯৯ শতাংশ শেয়ারের জন্য ৪৩,৫৭৪ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। এছাড়াও, গুগল ৭.৭৩ শতাংশ অংশীদারিত্বের জন্য ৩৩,৭৩৭ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছিল। পাশাপাশি সংস্থাটিতে জেনারেল আটলান্টিক, কেকেআর, সিলভার লেক, ভিস্তা ইকুইটি পার্টনার্স, মুবাডালা, এল ক্যাটারটন, পিআইএফ, ইন্টেল ক্যাপিটাল এডিআইএ, টিপিজি, এবং কোয়ালকম ভেঞ্চারস-সহ একদল গ্লোবাল আর্থিক ও কৌশলগত বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে প্রায় ১৫.২ শতাংশ অংশীদারিত্বে প্রায় ৭৪,৭৪৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে।
আরও পড়ুন: ‘হেয়ারকাট’-এর মাধ্যমে মকুব সুভাষ চন্দ্রের ২২,০০০ কোটি টাকার ঋণ! জানেন কী এই প্রক্রিয়া?
রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ বর্তমানে জিও প্ল্যাটফর্মসের পরিশোধিত ইক্যুইটি শেয়ার মূলধনের ৬৬.৪৩ শতাংশের মালিক। এদিকে, মেটা এবং গুগল একত্র ১৭.৭১ শতাংশ শেয়ারের মালিক, এবং বাকি শেয়ার অন্যান্য বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে।













