সুপ্রিম রায়ে গিয়েছিল চাকরি, ফিরল ১০ মাস পরে, নজিরবিহীন নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট

Published on:

Published on:

calcutta high court(98)
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ২৬০০০ চাকরি বাতিল (SSC 26000 Job Case) নিয়ে এখনও জট পুরোপুরি খোলেনি। কারণ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে বেশ কিছুটা সময় লাগবে। আবার অনেকেই ইতিমধ্যে ফিরে গিয়েছেন তাদের পুরানো চাকরিতে। গত বছর এপ্রিল মাসে প্রায় ছাব্বিশ হাজার চাকরি বাতিলের নির্দেশের পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) বলেছিল, যাঁরা অন্য কোনও চাকরি ছেড়ে এসএসসির মাধ্যমে এই চাকরিতে নিযুক্ত হয়েছিলেন, তাঁরা চাইলে পুরনো চাকরিতে ফিরে যাওয়ার পথ খোলা থাকছে। সেই প্রক্রিয়াতেই হাইকোর্টে (Calcutta High Court) গিয়ে চাকরি ফিরে পেলেন সুদীপ চ্যাটার্জি। তবে গল্পে রয়েছে টুইস্ট।

হাইকোর্টের নির্দেশে ১০ মাস পর চাকরি ফিরল | Calcutta High Court

বর্ধমানের বাসিন্দা সুদীপ চ্যাটার্জি আব্দুল মামুন হাই মাদ্রাসায় পলিটিক্যাল সায়েন্সের শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেছিলেন। এরপর এসএসসির ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত হয়ে মাদ্রাসার চাকরি ছেড়ে উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার চাকরিতে যোগ দেন। কিন্তু মাদ্রাসায় মাত্র একদিনই কাজে যোগ দিয়েছিলেন সুদীপ।

গত বছর নিয়োগে দুর্নীতির জেরে এসএসসি ২০১৬ সালের গোটা প্যানেল বাতিল করলে সুদীপও চাকরিহারা হয়ে পড়েন। এরপরই শীর্ষ আদালতের রায় মতো পুরোনো চাকরিতে ফিরে যেতে চান তিঁনি। মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের কাছে পুরনো চাকরিতে ফেরার আবেদনও জানান। এসএসসি তাঁর কাছে আগের চাকরির নথিপত্র চাইলে নিয়োগপত্র ও সুপারিশপত্র-সহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন সুদীপ।

যদিও কমিশন জানায়, সুদীপ যে সেখানে চাকরি করতেন তা সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে আলাদা করে প্রমাণ দিতে হবে। নতুবা নতুন করে নিয়োগপত্র দেওয়া যাবে না। এরপরই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন আবেদনকারী। বিচারপতি বিভাস পট্টনায়কের বেঞ্চে মামলার শুনানি হয়। আদালত সমস্ত তথ্য বিবেচনা করে আব্দুল মামুন হাই মাদ্রাসার কাছ থেকে রিপোর্ট তলব করে।

Calcutta High Court

আরও পড়ুন: ‘রাজ্যের টাকায় কেন অপচয়?’ ১৬ জানুয়ারির ঘটনা টেনে পূর্ত দপ্তরের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ হাই কোর্ট

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, সুদীপ একদিন কাজে যোগ দিয়েছিলেন এবং মাদ্রাসা আইন অনুযায়ী তিঁনি সংশ্লিষ্ট স্কুলে শিক্ষক হিসেবেই কর্মরত ছিলেন। এরপরই হাইকোর্টের নির্দেশ, সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনে সুদীপকে চাকরিতে ফের নিয়োগ করতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব মামলাকারীর হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন। এভাবে একদিনের কর্মরত শিক্ষকের চাকরি ফিরে পাওয়ার ঘটনা নজিরবিহীন বলেই মনে করছে আইনজীবী মহল।