‘আমি খুব খুশি’, অনুব্রত-ফিরহাদ ঋতব্রতর তৃণমূলে যেতেই বিস্ফোরক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়

Published on:

Published on:

Kalyan Banerjee opens up after Anubrata Mondal and Firhad Hakim joins Ritabrata Banerjee's TMC
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: বাংলা জুড়ে ভরাডুবির পর এখন নিজেদের ঘর সামলাতেই কার্যত হিমশিম খাচ্ছে তৃণমূল শিবির (TMC)। ইতিমধ্যেই আদি তৃণমূল ছেড়ে অনেকেই নাম লিখিয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নব তৃণমূলে। যা নিয়ে এদিনও নিজের ‘ডোন্ট কেয়ার’ ভাব দেখালেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। তাঁর কথায়, ‘আমাদের কিচ্ছু এসে যায় না কোন গদ্দার গেল!’

সামনেই ২১ জুলাই, তার আগেই তৃণমূল শিবিরকে চাঙ্গা করে তুলতে তাঁর এদিনের বিশেষ বার্তা ছিল, ‘একটা জিনিস মনে রাখবেন, ২০২৬ সালের মে মাসে পচিমবঙ্গের মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে যে ভোট দিয়েছেন আর বিজিপিকে যে ভোট, সেই ভোটের সাথে পার্থক্য মাত্র ২৪ লক্ষ। ৪১% তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে এবং ৪৫% ভারতীয় জনতা পার্টি পেয়েছে। ডিফারেন্স মাত্র ৪% তার বেশী কিছু নয়। যদিও ইলেকশান নিয়ে আমাদের কিছু প্রশ্ন আছে। সেই সম্পর্কে না গিয়েও আমি বলছি ৪% ডিফারেন্স রয়েছে।’

আসানসোলের দলীয় কার্যালয়ে সাংগঠনিক বৈঠক শেষে বড়সড় চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আসানসোলে আমাদের কর্মীদের মধ্যে আমি যে ধৈর্য্য এবং যে ইন্সপিরেশন দেখলাম তাতে আপনাদের আমি লিখে দিতে পারি যে ২০২৯-এ এই আসানসোল সাবডিভিশনে বিজেপি সাফ হয়ে যাবে। কেউ রাখতে পারবে না। এমনিতেই সারা ভারতবর্ষ ব্যাপী বিজেপির বিরুদ্ধে একটা হওয়া উঠেছে এবং ২০২৯ সালে ভারতীয় জনতা পার্টি ভারতবর্ষে আর থাকবে না। নরেন্দ্র মোদী আর প্রধানমন্ত্রী থাকবে না। যেভাবে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হচ্ছে, যেভাবে মানুষের বাকরুদ্ধ করা হচ্ছে ভারতবর্ষের মানুষ তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছেন এবং প্রতিবাদ করবেন।’

আরও পড়ুনঃ ভোটার লিস্টে থাকলেও রেশন তালিকায় নেই! ৬২০০০ বাতিল নাম নিয়ে চিন্তায় খাদ্য দফতর

পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধেও এদিন একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি দাবী করেছেন পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি দল চালাচ্ছে না। দলটা চালাচ্ছে পশ্চিমবাংলার পুলিশ। তাঁর অভিযোগ, ‘পশ্চিমবঙ্গের বুকে পুলিশ থ্রেট হচ্ছে। কোনো কর্মী বাইরে বেরোলে পুলিশ বলছে কেস দিয়ে দেব। পুলিশ বিধায়কদের বেরোতে দিচ্ছে না, পুলিশ পার্টি অফিস দখল করে নিচ্ছে। পুলিশের অসম্ভব অত্যাচার চলছে। পশ্চিমবঙ্গে শুধু পুলিশি রাজ রয়েছে অন্য কিছু নেই, বিজিপির কেউ নেই। বিজেপি দল চালাচ্ছে না। বিজেপির দলটা চালাচ্ছে পশ্চিমবাংলার পুলিশ। ‘

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে একহাত নিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবী করেছেন, ‘যারা তৃণমূল ছেড়ে গিয়েছেন তারা সবাই শুভেন্দু অধিকারীর ‘বি টিম’। আমি বলছি না বিজেপির বি টিম’, আমি বলছি পশ্চিমবাংলায় শুভেন্দু অধিকারীর ‘বি টিম’ তৈরী করেছে। আর এই শুভেন্দু অধিকারীর ‘বি টিম’-এ যত কয়লা চোর, যত গরু চোর, যত পাথর চোর, যত ডাকাত, যত লুম্ফেন তৃণমূলে ছিল সব চলে গেছে।’

আরও পড়ুনঃ অবশেষে এল একুশে জুলাই পালনের অনুমতি, জোর কদমে ‘শহীদ দিবসের’ প্রস্তুতি শুরু ঋতব্রতর তৃণমূলে

সবশেষে তৃণমূল নেতার কটাক্ষ, ‘আমরা খুব খুশী যে অনুব্রত মণ্ডলকে অন্তত নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলছে যে ও ধোয়া তুলসীপাতা। আমি খুব হ্যাপি যে ববি হাকিমকে নিয়েছে। ওকেই তো বলা হয়েছিল বড় চোর।’