বাংলা হান্ট ডেস্ক: দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে ভারত ও নিউজিল্যান্ড অবশেষে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (India New-Zealand FTA) সম্পন্ন করেছে। এই চুক্তিকে ‘দশকে একবার’ ঘটা চুক্তি হিসেবে বিবেচিত করা হচ্ছে। সোমবার, এই দুই দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে বহু প্রতীক্ষিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিটি (FTA) অনুমোদন করেছে। ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং নিউজিল্যান্ডের বাণিজ্যমন্ত্রী টড ম্যাকলের উপস্থিতিতে এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। সব থেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিটি সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপতি পর্যন্ত সকলের জন্য নতুন সুযোগ নিয়ে এসেছে। এটি কোনও রাতারাতি নেওয়া সিদ্ধান্ত নয়, বরং এই বাণিজ্য চুক্তির জন্য আলোচনা শুরু হয়েছিল ২০১০ সালে। ২০১৫ সালে আলোচনা থমকে যাওয়ার পর, গত বছর তা আবার শুরু হয় এবং এখন এটি ভারতের অন্যতম দ্রুততম সম্পন্ন হওয়া বাণিজ্য চুক্তিতে পরিণত হয়েছে।
ভারত-নিউজিল্যান্ডের মধ্যে সম্পন্ন হল মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (India New-Zealand FTA):
তরুণ-তরুণীদের জন্য বিশেষ সুযোগ: জানিয়ে রাখি যে, এই চুক্তির সবচেয়ে বড় এবং সরাসরি সুবিধা পাবেন সেইসব তরুণ-তরুণী যাঁরা আন্তর্জাতিক স্তরে কর্মজীবন গড়তে চান। এই চুক্তিতে পরিষেবা সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। মূলত, নিউজিল্যান্ড একটি নতুন কর্মসংস্থান ভিসা ব্যবস্থা চালু করছে। যা ৫,০০০ ভারতীয় কর্মজীবীকে সেখানে ৩ বছর পর্যন্ত ভ্রমণ ও কাজ করার সুযোগ দেবে। এটি তথ্যপ্রযুক্তি থেকে শুরু করে আর্থিক পরিষেবা, শিক্ষা নির্মাণ এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতের সঙ্গে জড়িতদের জন্য এটি একটি সুবর্ণ সুযোগ। এছাড়াও, ভারতের ঐতিহ্যবাহী পেশা, যেমন আয়ুষ, যোগ প্রশিক্ষক, ভারতীয় শেফ এবং সঙ্গীত শিক্ষকদের জন্যও বিদেশে তাঁদের দক্ষতা প্রদর্শনের নতুন পথ খুলে গিয়েছে। ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে, ও বস্ত্র, চামড়া, প্লাস্টিক এবং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো ভারতের শ্রম-নিবিড় সেক্টরগুলি এখন কোনও শুল্ক (কর) ছাড়াই নিউজিল্যান্ডের বাজারে সরাসরি প্রবেশাধিকার পাবে।
Prime Minister of New Zealand tweets, “Today, we mark a historic milestone in the relationship between India and New Zealand: the signing of our Free Trade Agreement. It was only 13 months ago that I travelled to India to meet with Prime Minister Modi and launch Free Trade… pic.twitter.com/dEKTzqCxhU
— ANI (@ANI) April 27, 2026
কৃষকদের জন্য সুরক্ষা: উল্লেখ্য যে, বৈদেশিক বাণিজ্য চুক্তির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয় দেশীয় উৎপাদকদের ক্ষতি। তবে, এই চুক্তিটি একটি অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ কৌশল গ্রহণ করেছে। ভারত সরকার দুগ্ধ থেকে শুরু করে চিনি এবং নির্দিষ্ট কিছু ধাতুর মতো সংবেদনশীল সেক্টরগুলিকে এই চুক্তির আওতা থেকে সম্পূর্ণরূপে বাদ দিয়েছে। এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হল ভারতের ক্ষুদ্র কৃষক ও উৎপাদকদের বিদেশি প্রতিযোগিতা থেকে রক্ষা করা। এদিকে, আপেল থেকে শুরু করে কিউই এবং মানুকা মধুর মতো কৃষি পণ্যের ক্ষেত্রেও কঠোর আমদানি বিধি প্রযোজ্য হবে। বাণিজ্যমন্ত্রী এটাও স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি নিউজিল্যান্ড থেকে আসা কিউই কৃষকদের স্বাগত জানান, কিন্তু ভারতীয় কৃষকদের স্বার্থের সঙ্গে কোনও আপস করা হবে না।
আরও পড়ুন: ‘ভাইয়া নেহি ব্রাদার’, LSG-র বিরুদ্ধে ম্যাচ জিতে রিঙ্কুর মা-বোনের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বললেন নারিন
‘মেড ইন ইন্ডিয়া’-র জন্য করমুক্ত প্রবেশ: আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিটি কেবল পণ্যের রফতানিই বৃদ্ধি করবে না বরং, ভারতে বিদেশি পুঁজি প্রবাহের পথও প্রশস্ত করে। একটি পরিসংখ্যান, অনুযায়ী, আগামী ১৫ বছরে নিউজিল্যান্ড থেকে ভারতে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (FDI) আসতে পারে। এর বিনিময়ে, নিউজিল্যান্ডও ভারতের বিশাল কনজিউমার মার্কেটে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান লাভ করে। উল, কয়লা, কাঠের পণ্য এবং সামুদ্রিক খাবারসহ নিউজিল্যান্ডের ৫৪ শতাংশেরও বেশি পণ্য এখন কোনও শুল্ক ছাড়াই ভারতে প্রবেশ করতে পারবে। এর ফলে দেশীয় গ্রাহকরা আরও ভালো ও নতুন বিকল্প পাবেন।
আরও পড়ুন: আর করতে হবে না বছরের পর বছর অপেক্ষা! এবার দ্রুত বাড়বে সরকারি ব্যাঙ্ক কর্মচারীদের বেতন
জানি রাখি যে, বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২.৪ বিলিয়ন ডলার। সামগ্রিকভাবে দেখতে গেলে, ক্ষুদ্র ও উচ্চমূল্যের বাজারগুলিতে নিজেদের প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণের ভারতীয় কৌশলের অংশ হিসাবে, এই চুক্তিটি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে অর্থনীতি ও কূটনীতির এক নতুন ও শক্তিশালী অধ্যায় রচনা করতে চলেছে।












