বাংলা হান্ট ডেস্ক: মহিলাদের সুবিধার্থে এবং তাঁদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন যোজনা পরিচালনা করে কেন্দ্রীয় সরকার। সেগুলির মধ্যে অন্যতম হল লাখপতি দিদি যোজনা (Lakhpati Didi Yojana)। যেটি গ্রামীণ অর্থনীতিকে নতুন রূপ দিতে এবং মহিলাদের আর্থিক স্বাধীনতা বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ৩০ কোটি মহিলাকে লাখপতি হিসেবে গড়ে তোলা এবং তাঁদের বার্ষিক আয় কমপক্ষে ১০০,০০০ টাকা নিশ্চিত করা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প দেশের গ্রামগুলিতে মহিলাদের স্বাবলম্বী করে তোলার ক্ষেত্রে নতুন ঢেউ তুলেছে। বর্তমান প্রতিবেদনে এই প্রকল্পটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপিত করা হল।
লাখপতি দিদি যোজনা (Lakhpati Didi Yojana):
জানিয়ে রাখি যে, লাখপতি দিদি প্রকল্পটি মূলত গ্রামের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত মহিলাদের লক্ষ্য করে তৈরি। সরকার এই মহিলাদের শুধু আর্থিক সহায়তাই প্রদান করে না, বরং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তাঁদের স্বনির্ভর করে। যাতে তাঁরা নিজেদের ছোট ব্যবসা শুরু করতে সক্ষম হন।

এই প্রকল্পের অধীনে প্রদত্ত প্রধান প্রশিক্ষণসমূহ:
LED বাল্ব তৈরি: মহিলাদের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও বাল্ব তৈরির প্রশিক্ষণ।
সেলাই ও বুনন: আধুনিক ফ্যাশন এবং পোশাক শিল্পের উপযোগী দক্ষতা।
মাশরুম চাষ ও দুগ্ধ উৎপাদন: কৃষিভিত্তিক ব্যবসার জন্য কারিগরি জ্ঞান।
ড্রোন অপারেটর (নমো ড্রোন দিদি): কৃষিক্ষেত্রে সার ও কীটনাশক প্রদানের জন্য ড্রোন ওড়ানোর প্রশিক্ষণ।
আরও পড়ুন: ‘এইরকম হলে আমি ২,০০০-৩,০০০ রান করব’, IPL- এর আগে কেন এমন প্রতিক্রিয়া বৈভব সূর্যবংশীর?
কীভাবে লাভবান হয়েছেন মহিলারা: এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এটি মহিলাদের মধ্যে ব্যবসায়িক মানসিকতা তৈরি করে। যখন একজন মহিলা বছরে ১ লক্ষ টাকা আয় করেন, তখন তা পুরো পরিবার এবং সমাজের জন্য ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হয়। এর মানে হল, মহিলাদের এখন আর ছোটখাটো প্রয়োজনের জন্যও অন্যদের ওপর নির্ভর করতে হয় না। সরকার এই গোষ্ঠীগুলোকে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম এবং সরকারি মেলার মাধ্যমে তাঁদের পণ্য বৃহত্তর বাজারে বাজারজাত করতে সাহায্য করে। নিজেদের স্টার্টআপ বা ক্ষুদ্র শিল্প শুরু করার জন্য মহিলারা ব্যাঙ্ক থেকে খুব কম সুদে ঋণও পান।
আরও পড়ুন: ভারতের সঙ্গে সিরিজ খেলার জন্য মরিয়া বাংলাদেশ! বড় পদক্ষেপ নিল BCB
কীভাবে আবেদন করবেন: জানিয়ে রাখি যে, লাখপতি দিদি প্রকল্পের সুবিধা পেতে হলে, ইচ্ছুক মহিলাকে অবশ্যই একটি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর (SHG) সদস্য হতে হবে। নিকটতম অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বা পঞ্চায়েত অফিসে গিয়ে এই সম্পর্কে আরও তথ্য জানা হবে। সেখানে মহিলাদের দলের মাধ্যমে একটি বিজনেস প্ল্যান জমা দিতে হবে। যার পরে সরকার তাঁদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে।












