বাংলা হান্ট ডেস্কঃ পুজো শেষ হয়ে গেলেও বাজারে গিয়ে স্বস্তি পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। প্রতিদিনের রান্নার জিনিস কিনতেই খরচ হচ্ছে অনেক টাকা (Kolkata Market Price)। কলকাতার বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজি প্রতি ৭০ থেকে ৮০ টাকা। অন্যদিকে, বাদাম তেল ও সর্ষের তেলের দামও প্রায় ২০০ টাকা। ফলে সংসার চালাতে বেশ সমস্যায় পড়ছেন মধ্যবিত্তরা। কিন্তু কবে কমবে এই দাম? সেই প্রশ্নেরই উত্তর দিয়েছেন বাজারের ব্যবসায়ীরা।
Kolkata Market Price : কালীপুজোর পর কমবে পেঁয়াজের দাম?
মানিকতলা বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির প্রধান বাবলু দাসের মতে, এখনই পেঁয়াজের দাম কমার সম্ভাবনা কম (Kolkata Market Price)। কারণ, পুজো শেষ হলেও কালীপুজো ও ভাইফোঁটা পর্যন্ত বাজারে কেনাকাটা বেশি হবে। ফলে এই সময় পেঁয়াজের দাম চড়া থাকতে পারে। এর পাশাপাশি পণ্য আনার খরচও বেড়েছে।
পেঁয়াজের দাম কমাতে গত ২৩ সেপ্টেম্বর উদ্যোগ নিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। পুজোর কথা মাথায় রেখে পশ্চিমবঙ্গে অতিরিক্ত পেঁয়াজ পাঠানোর কথা জানানো হয়েছিল। সরকারি মজুত থেকে প্রায় ১,৪০০ টন পেঁয়াজ রাজ্যে আনা হয়। সেই পেঁয়াজ কেজি প্রতি ৩৫ টাকা দরে বিক্রি করা হয়েছিল (Kolkata Market Price)।
কলকাতার মানিকতলা, শ্যামবাজার ও কোলে মার্কেট-সহ ২৫টিরও বেশি জায়গায় এই পেঁয়াজ বিক্রি হয়। তবে সরকারি উদ্যোগের পরেও সব বাজারে দাম কমেনি। বিশেষ করে ছোট বাজারগুলিতে এখনও বেশি দামেই পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
শুধু পেঁয়াজ নয়, বাদাম তেল ও সর্ষের তেলের দামও অনেকটাই বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের কথায়, তেল তৈরির কাঁচামাল কেনা থেকে শুরু করে উৎপাদন, সব ক্ষেত্রেই খরচ বেড়েছে। সেই কারণে তেলের দামও বেশি রয়েছে। বাজারে পণ্যের জোগান মোটের উপর ঠিক থাকলেও দাম কমছে না।
গত ২৯ অক্টোবর প্রকাশিত বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, এ বছর খরা ও আবহাওয়ার কারণে সয়াবিন এবং বাদামের উৎপাদন কমতে পারে। বাদামের উৎপাদন ২০ শতাংশেরও বেশি কমার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ভারতে ভোজ্যতেলের আমদানি ১৬৫ লক্ষ টন থেকে বেড়ে ১৭৫ লক্ষ টন হতে পারে। এদিকে, তেলের দাম কমাতে গত ২৪ সেপ্টেম্বর আমদানি শুল্ক কমিয়েছিল কেন্দ্র। অপরিশোধিত সূর্যমুখী তেলের শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য করা হয়েছে। সয়াবিন ও পাম তেলের শুল্কও ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। তবে শুল্ক কমলেই বাজারে তেলের দাম সঙ্গে সঙ্গে কমে না।
অন্যদিকে, চিনির দাম আপাতত স্থির রয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, সরকারের হস্তক্ষেপের পর থেকে চিনির দামে তেমন কোনও পরিবর্তন হয়নি।

আরও পড়ুনঃ উচ্চ মাধ্যমিকে সেমেস্টার তুলে দেওয়ার ভাবনা! আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই বদলাতে পারে পরীক্ষার নিয়ম
তাহলে কবে কমবে বাজারদর?
ব্যবসায়ীদের মতে, কালীপুজো ও ভাইফোঁটা মিটলে পেঁয়াজের চাহিদা কমতে পারে। তখন দাম কমার সুযোগ রয়েছে। তবে তেলের দাম কমবে কি না, তা নির্ভর করছে দেশের উৎপাদন, বিদেশের বাজার এবং আমদানির খরচের উপর। তাই কালীপুজোর পরেই যে বাজারে বড় স্বস্তি মিলবে, এমনটা এখনই বলা যাচ্ছে না (Kolkata Market Price)।












