বাংলা হান্ট ডেস্কঃ দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর কাজে ব্যবহৃত হওয়ার পর এবার ফের কলকাতা পুরসভার (Kolkata Municipal Corporation) হাতে ফিরতে পারে সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার বা ওয়েলিংটন স্কোয়ারের একাংশ ও সংলগ্ন এলাকা। মেট্রোর আর কোনও কাজে ওই জমি ব্যবহার হচ্ছে না এমন তথ্য সামনে আসতেই জমি ফেরত চাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে কলকাতা পুরসভা।
দশ বছর ধরে মেট্রোর দখলে ছিল ওই জমি
ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো প্রকল্পের জন্য একসময় কলকাতা পুরসভার (Kolkata Municipal Corporation) কাছ থেকে সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারের একাংশ, সংলগ্ন স্পোর্টস ক্লাব এবং বক্সিং রিংয়ের জমি নিয়েছিল কলকাতা মেট্রো রেল কর্পোরেশন লিমিটেড (কেএমআরসিএল)। সেই জমিই প্রায় ১০ বছর ধরে মেট্রোর দখলে ছিল।
জমি ফেরত চেয়ে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত পুরসভার (Kolkata Municipal Corporation)
পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation) সূত্রে খবর, সম্প্রতি জানা গিয়েছে যে ওই জমি এখন আর মেট্রোর কোনও কাজেই ব্যবহার করা হচ্ছে না। সেই কারণেই জমি ফেরত চেয়ে কেএমআরসিএল-কে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলকাতা পুরসভা। ইতিমধ্যেই সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারে শিয়ালদহ ও এসপ্ল্যানেডের মাঝখানে মাটির নীচে একটি মেট্রো স্টেশন তৈরি হওয়ার কথা ছিল। পরে সেই সিদ্ধান্ত বদলে সেখানে একটি ভেন্টিলেশন শ্যাফ্ট বা কুয়ো তৈরি করা হয়। প্রথমে বলা হয়েছিল, জরুরি পরিস্থিতিতে ওই শ্যাফ্ট ব্যবহার করে যাত্রীদের বাইরে বের করে আনা যাবে।
কিন্তু প্রায় দু’বছর আগে মেট্রোর পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, সেখানে আর সেই সুবিধা রাখা হচ্ছে না। ভেন্টিলেশন শ্যাফ্টটি শুধুমাত্র সুড়ঙ্গে বাতাস চলাচলের জন্য ব্যবহার করা হবে। বর্তমানে সেটিও কার্যত বন্ধ রয়েছে বলে খবর।
জায়গাটি খালি পড়ে আছে এবং ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো রুট পুরোপুরি চালু হওয়ার পর মেট্রো ওই এলাকা ছেড়ে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জমিটি যদি মেট্রোর কাজে না লাগে, তাহলে তা ফেরত পাওয়ার দাবিতে সক্রিয় হয়েছে পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation)। সম্প্রতি ৫১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার ইন্দ্রনীল কুমার মেয়রের কাছে জমিটি নিয়ে একাধিক দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় দ্বিতীয় কোনও পুর-স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা স্যাটেলাইট হেলথ সেন্টার গড়ার মতো জমি নেই। তাই খালি পড়ে থাকা ওই জায়গায় একটি পুর-স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরি করা হলে এলাকার মানুষের বড় উপকার হবে। পাশাপাশি, একটি ছোট পানীয় জলের বুস্টার পাম্পিং স্টেশন গড়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। এতে এলাকার ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার ভবিষ্যৎ পানীয় জলের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, দীর্ঘদিন পরে সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারের ওই জমি ঘিরে নতুন করে পুর পরিকল্পনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এখন সব নজর পুরসভার (Kolkata Municipal Corporation) জমি ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া কত দ্রুত সম্পন্ন হয়, তার দিকেই।
















