বাংলা হান্ট ডেস্কঃ নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে শুক্রবার কলকাতার ধর্মতলায় ছাত্রদের আন্দোলন (Kolkata NEET Protest) ঘিরে বড় অশান্তি ছড়ায়। আন্দোলনের সময় পুলিশ ও সাংবাদিকদের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী এবং সাংবাদিক আহত হন। ঘটনার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই ৬টি মামলা দায়ের হয়েছে। অন্যদিকে, নিট প্রশ্নফাঁসের মামলাগুলির দ্রুত বিচার করতে কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)-সহ দেশের কয়েকটি হাইকোর্টের অধীনে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র।
ধর্মতলা কাণ্ডে ৬ মামলা, নিট মামলায় ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট (Kolkata NEET Protest)
শুক্রবার নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে বাম ছাত্র সংগঠনের ডাকা মিছিল ও বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায় ধর্মতলায় (Kolkata NEET Protest)। অভিযোগ, আন্দোলনের মাঝেই আচমকা ইট, বোতল, লাঠি ও জুতো ছোড়া হয়। তাতে আহত হন একাধিক পুলিশকর্মী। খবর সংগ্রহ করতে গিয়েও হামলার মুখে পড়েন সাংবাদিকরা। এই ঘটনায় হেয়ার স্ট্রিট থানায় একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এছাড়া সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় আরও ৫টি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট ৬টি মামলা রুজু হয়েছে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন চিত্র সাংবাদিক দীপঙ্কর দাশগুপ্ত ও মাখন পাত্র। আহত হয়েছেন সাংবাদিক সুমন মহাপাত্রও। পরে তাঁদের দেখতে এসএসকেএম হাসপাতালে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস দেন।পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার একাধিক ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই ফুটেজ খতিয়ে দেখে কারা হামলায় জড়িত ছিল, তা খুঁজে বের করার কাজ চলছে। ইতিমধ্যেই কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে বলেও খবর।
ধর্মতলার ঘটনায় বেআইনি জমায়েত, বেআইনি জমায়েত থেকে অপরাধ সংগঠিত করা, সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা দেওয়া ও মারধর, রাস্তা অবরোধ, শান্তি নষ্টের উদ্দেশ্যে উস্কানি ও বিদ্বেষ ছড়ানো, সরকারি নির্দেশ অমান্য করা এবং একই উদ্দেশ্যে একাধিক ব্যক্তির অপরাধ সংগঠনের মতো একাধিক ধারায় মামলা করা হয়েছে।
ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী লেখেন, সাংবাদিকদের উপর হামলার তীব্র নিন্দা করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, প্রতিবাদের নামে কোনও ধরনের গুণ্ডামি বরদাস্ত করা হবে না। এদিকে সাংবাদিকদের উপর হামলার প্রতিবাদে শনিবার দুপুর ১টায় কালো ব্যাজ পরে বিধানসভা থেকে প্রেস ক্লাব পর্যন্ত মিছিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিজেপি বিধায়করা। তাঁদের দাবি, আন্দোলন যে-ই করুক না কেন, সাংবাদিকদের উপর হামলা মেনে নেওয়া যায় না। দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তি দিতে হবে।
অন্যদিকে, নিট-সহ বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস রুখতে আরও কড়া আইন আনছে কেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে ঘোষণা করেছিলেন। তার পর শুক্রবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশন (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) অ্যাক্ট, ২০২৪’-এর সংশোধনী বিলে অনুমোদন দেয়। আগামী সোমবার সংসদে সেই বিল পেশ করা হবে।
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনও পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হলে দুই মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে হবে। এরপর তিন মাসের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। অর্থাৎ পুরো প্রক্রিয়া পাঁচ মাসের মধ্যেই শেষ করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। সংশোধনী বিলে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের জেল এবং ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তবে এই শাস্তি একক ব্যক্তি ও সংঘবদ্ধ চক্রের ক্ষেত্রে কীভাবে প্রযোজ্য হবে, তা বিলে স্পষ্ট করে বলা হয়নি।
বর্তমানে ২০২৪ সালের আইনের ১০ নম্বর ধারা অনুযায়ী, একক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ প্রমাণিত হলে ৩ থেকে ৫ বছরের জেল এবং ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানার ব্যবস্থা রয়েছে। আর ১১ নম্বর ধারা অনুযায়ী, সংঘবদ্ধ চক্রান্তের প্রমাণ মিললে ৫ থেকে ১০ বছরের জেল এবং ১ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ পেনশনের কাজে বড় বদল! রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য চালু হল ডিজিটাল ব্যবস্থা
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত মামলাগুলির দ্রুত শুনানির জন্য কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court), দিল্লি হাইকোর্ট, মুম্বই হাইকোর্ট এবং মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের অধীনে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠন করা হচ্ছে। এর ফলে এই মামলাগুলির বিচার দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করা হবে (Kolkata NEET Protest)।













