বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতের স্ন্যাকস শিল্পে এক যুগের অবসান। প্রখ্যাত শিল্পপতি শিব রতন আগরওয়ালের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ ব্যবসায়ী মহল। তবে, তাঁর সাফল্যের কাহিনি (Success Story) জানলে অবাক হবেন আপনিও। গত বৃহস্পতিবার চেন্নাইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। বিকানেরের এক সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে তিনি গড়ে তুলেছিলেন আন্তর্জাতিক মানের একটি খাদ্য সংস্থা, যা আজ বিশ্বজুড়ে পরিচিত একটি ব্র্যান্ড।
প্রয়াত শিল্পপতি শিব রতন আগরওয়ালের সাফল্যের কাহিনি (Success Story):
১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত তাঁর সংস্থা বিকাজি ফুডস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড আজ ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় স্ন্যাকস প্রস্তুতকারক। পারিবারিক ব্যবসার গণ্ডি ছেড়ে নিজের স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যেই তিনি আলাদা পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেন। বিকানেরের একটি ছোট কারখানা থেকে যাত্রা শুরু করে ধীরে ধীরে দেশ-বিদেশে নিজের জায়গা করে নেয় এই ব্র্যান্ড। তাঁর নেতৃত্বে বিকাজি শুধুমাত্র ভারতেই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও শক্ত অবস্থান তৈরি করে।
আরও পড়ুন: IPL ২০২৬-এ এন্ট্রি পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়ের! খেলবেন এই দলে
ব্যবসার প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল একেবারেই আলাদা। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় তিনি খুব বেশি দূর এগোতে না পারলেও হাতে-কলমে অভিজ্ঞতাকেই তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন সারাজীবন। খুব অল্প বয়স থেকেই ভুজিয়া তৈরির কাজে দক্ষ হয়ে ওঠেন তিনি। ১৯৮৬ সালে ‘শিবদীপ প্রোডাক্টস’ নামে যাত্রা শুরু করে পরবর্তীতে সেটিই ‘বিকাজি’ নামে পরিচিতি পায়। বিকানেরের প্রতিষ্ঠাতা রাও বিকাজির নামানুসারে ব্র্যান্ডটির নামকরণ তাঁর মাটির প্রতি ভালোবাসারই প্রতিফলন।
বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করতে তিনি আধুনিক বিপণন কৌশল গ্রহণ করেন। বলিউডের কিংবদন্তি অমিতাভ বচ্চনকে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর করে বিকাজিকে ঘরে ঘরে পৌঁছে দেন। বর্তমানে সংস্থাটি বিএসই এবং এনএসই-তে তালিকাভুক্ত এবং ২০২৬ সালের ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত এর বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৭,২৮২ কোটি টাকা। ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৩,১৭১ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন: ‘কঠিন লড়াই’ বঙ্গে! মমতার হয়ে প্রচারে আসছেন কেজরিওয়াল, অংশ নেবেন একাধিক জনসভায়
শিব রতন আগরওয়ালের প্রয়াণে শুধু একটি সংস্থাই নয়, ভারতীয় উদ্যোগপতি সমাজ হারাল এক প্রেরণাদায়ী ব্যক্তিত্বকে। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে খাদ্য শিল্পে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। বিকানেরের মাটি থেকে উঠে এসে বিশ্ববাজারে সফলভাবে (Success Story) নিজের পরিচয় তৈরি করার এই গল্প আগামী প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের জন্য এক অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

















