চাকরি ছেড়ে ১ লক্ষ টাকায় শুরু স্টার্টআপ! আজ ১৫ কোটির টার্নওভার, নজির গড়লেন লোকেশ্বরন

Published on:

Published on:

Lokeshwaran's Success Story will inspire you.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: প্রায়শই মনে করা হয় যে স্টার্টআপ শুরু করার আদর্শ বয়স ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। কিন্তু চেন্নাইয়ের লোকেশ্বরন কান্নানের সাফল্য (Success Story) সেই প্রচলিত ধারণাকে ভেঙে দিয়েছেন। আইটি সেক্টরে প্রায় ২৮ বছরের দীর্ঘ ও সফল কর্মজীবন কাটিয়ে, একটি বহুজাতিক সংস্থায় উচ্চপদে কাজ করার পর ৪৮ বছর বয়সে তিনি স্থায়ী চাকরি ছেড়ে দেন। সে সময় অনেকেই তাঁকে এই সিদ্ধান্তের জন্য “পাগল” বলেছিলেন। কিন্তু লোকেশ্বরনের চোখে ছিল একটি স্পষ্ট লক্ষ্য। মাত্র ১ লক্ষ টাকা মূলধন, একটি টেবিল, একটি চেয়ার ও একটি পাখা নিয়ে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি শুরু করেন eOrbitor-এর যাত্রা।

লোকেশ্বরন কান্নানের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story):

সংস্থা শুরুর মাত্র ৪০ দিনের মধ্যেই বিশ্বজুড়ে কোভিড-১৯-এর কারণে লকডাউন নেমে আসে। যখন বড় বড় আইটি কোম্পানি কার্যত থমকে যাচ্ছিল, তখন লোকেশ্বরন পরিস্থিতিকে সুযোগে পরিণত করেন। তিনি এমন একটি পরিষেবার দিকে মনোযোগ দেন, যার চাহিদা লকডাউনের সময় সবচেয়ে বেশি ছিল—ডেটা সেন্টার রক্ষণাবেক্ষণ। eOrbitor-এর প্রথম কাজ ছিল মাত্র ১৪ হাজার টাকার একটি ফায়ারওয়াল সাপোর্ট চুক্তি। কিন্তু দূরদর্শিতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং নিরলস পরিশ্রমের জোরে অল্প সময়ের মধ্যেই সংস্থাটি বড় মাপের প্রকল্প পেতে শুরু করে।

আরও পড়ুন: বাচ্চাদের জন্য আর নয় ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম! অস্ট্রেলিয়ার পর এই দেশগুলিতেও হতে পারে ব্যান

বর্তমানে eOrbitor তথ্যপ্রযুক্তি জগতে কার্যত “ডাক্তার”-এর মতো ভূমিকা পালন করছে। বড় কোনও শিল্প সংস্থা বা সরকারি প্রতিষ্ঠানের ডেটা সেন্টার বিপর্যস্ত হলে, লোকেশ্বরনের টিম দ্রুত সেখানে পৌঁছে ব্যবস্থা নেয়। এই নির্ভরযোগ্যতার কারণেই গুজরাট মেট্রো রেল, হায়দ্রাবাদ পুলিশ কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার (যেখানে প্রায় ১৮ হাজার ক্যামেরা যুক্ত), অশোক লেল্যান্ড এবং জোহোর মতো সংস্থাগুলি তাদের ক্লায়েন্ট তালিকায় যুক্ত হয়েছে। eOrbitor শুধু পণ্য বিক্রিতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিষেবা ও অংশীদারিত্বকেই ব্যবসার মূল ভিত্তি হিসেবে ধরে রেখেছে।

মাত্র ১ লক্ষ টাকা দিয়ে শুরু হওয়া এই সংস্থার টার্নওভার এখন ১৫ কোটির বেশি। আগামী এক বছরের মধ্যেই তা ৩০ কোটি টাকায় পৌঁছতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। লোকেশ্বরনের সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি হল আর্থিক শৃঙ্খলা। তিনি সময়মতো বিক্রেতাদের অর্থ পরিশোধ করেন এবং কর্মীরা প্রতি মাসের ১ তারিখেই বেতন পান। এই বিশ্বাসযোগ্যতার জেরেই কোনও সম্পত্তি জামানত ছাড়াই ব্যাংক থেকে eOrbitor পাঁচ কোটি টাকার ওভারড্রাফ্ট সুবিধা পেয়েছে, যা একটি এমএসএমই সংস্থার পক্ষে বড় সাফল্য।

Lokeshwaran's Success Story will inspire you.

আরও পড়ুন: নিজের কেবিনে একাধিক মহিলার সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ! ভিডিও ভাইরাল হতেই সাসপেন্ড খোদ ডিজিপি

বর্তমানে ভারতের ১১টি শহরে eOrbitor-এর উপস্থিতি রয়েছে এবং ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজা, দুবাই ও আবুধাবিতেও সংস্থার কাজ শুরু হয়েছে। সম্প্রসারণের পাশাপাশি কর্মীদের কল্যাণেও বিশেষ গুরুত্ব দেন লোকেশ্বরন। পাঁচ দিনের কর্ম সপ্তাহ, নগদহীন স্বাস্থ্য বিমার মতো নীতিই তার প্রমাণ। তাঁর কাছে সাফল্য মানে শুধু মুনাফা নয়, বরং যেসব ৫০টির বেশি পরিবার তাঁর সংস্থার সঙ্গে যুক্ত, তাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।